ছবি: আপন দেশ
আজ ০৯ আগস্ট (রোববার) আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আদিবাসীদের অধিকার, শত বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতি বছর এদিনে দিবসটি পালন করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে।
এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’।
১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘ প্রথমবার বিশ্বে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করে। পরের বছর ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছর ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩৭ কোটির অধিক আদিবাসীর অধিকার সুরক্ষায় দিবসটি পালন করে আসছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।
আরও পড়ুন<<>>ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন নারী অধিকারকর্মী খুশী কবির, আন্না মিনজ এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।
প্রতিবছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস এলেই বাংলাদেশে একটি পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসে–এ দেশের আদিবাসী আসলে কারা? আমাদের আলোচনার সিংহভাগই আটকে থাকে বিভিন্ন নামের বিতর্কে–তাদের কি ‘আদিবাসী’, ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ নাকি ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’ বলা হবে? এর সঙ্গে যোগ হয় কে কখন কোথা থেকে এসেছে, সে বিতর্ক। এসব নাম ও পরিচয়ের বিতর্কে আমরা এতটাই ব্যস্ত থাকি যে, তারা যে একটি ঐতিহাসিক জনগোষ্ঠী, তারা কী রক্ষা করতে চায় এবং তাদের টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য কেন এত জরুরি–সে মূল প্রশ্নগুলো আড়ালেই থেকে যায়।
একজন চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, গারো বা সাঁওতাল একই সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক এবং এমন একটি স্বাতন্ত্র্যসূচক জনগোষ্ঠীর অংশ, যাদের সমষ্টিগত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূমির সম্পর্ক এ আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির বহু আগে থেকেই বিদ্যমান। এ ঐতিহাসিক সত্যকে স্বীকার করে নিলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হয় না কিংবা এর সার্বভৌমত্বও দুর্বল হয় না; বরং বাংলাদেশের সমাজের যে বৈচিত্র্যময় ও বহুত্ববাদী বাস্তব রূপ রয়েছে, তাই সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজ এ বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ একুশ শতকে এসে তথাকথিত ‘সংখ্যালঘু সমস্যা’টি আর ছোট কোনো বিষয় নয়, এটি একটি বড় মানবিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। আমরা যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে তুলেছি, তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর; কিন্তু তা পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে, যা প্রকারান্তরে মানুষের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি। প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো আমাদের তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু প্রযুক্তি একা আমাদের এটি শেখাতে পারবে না; যে পৃথিবী আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, তাকে ধ্বংস না করে কীভাবে আমরা এখানে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































