ছবি : সংগৃহীত
প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনটাকেই স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আগে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। ব্যাট হাতে দিনের শেষটা করেছে দারুণ স্বস্তিতে। স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯৬ রান!
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে উইকেটে থাকবেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান। মুমিনুল ৩৫ এবং তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬০ রান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। উইকেটে আর্দ্রতা থাকলেও আগে ব্যাট করে সেটির সুবিধা নেয়ার পরিকল্পনা ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু বাংলাদেশের পেসাররা বল হাতে নামার পর সে পরিকল্পনা টেকেনি।
প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম আঘাত হানেন তিনি। পরের ওভারেই ট্রাভিস হেডকে ২২ রানে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন এ পেসার।
লাঞ্চের আগেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আরও দুটি ধাক্কা আসে। ইবাদত হোসেনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন মার্নাস লাবুশেন। এরপর লাঞ্চের ঠিক আগের বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ধরা পড়েন ক্যামেরন গ্রিন। ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
স্মিথ তখন ব্যক্তিগত ২ রানে জীবন পান। ইবাদতের বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়েও তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ধরা পড়েননি তিনি। সে সুযোগই পরে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয় সেশনে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স কেয়ারি মিলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করেন। দুজনের ব্যাটে আসে ৫৫ রানের জুটি, যা হয়ে ওঠে স্বাগতিকদের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। তবে পানি বিরতির পর প্রথম বলেই কেয়ারিকে ১৯ রানে বোল্ড করে সে প্রতিরোধ ভেঙে দেন ইবাদত।
এরপর বাউ ওয়েবস্টার কিছুটা ইতিবাচক শুরু করলেও তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলেই বোল্ড হন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।
এক প্রান্তে উইকেটের মিছিল চললেও অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্মিথ। দুই রানে জীবন পাওয়া এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তবে নতুন স্পেলে ফিরে হাসান মাহমুদ পরপর দুই ওভারে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও চাপে ফেলে দেন।
আরও পড়ুন<<>>অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ
চা বিরতিতে ৮ উইকেটে ১৮২ রান নিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ সেশনে পাঁচ ওভারও টিকতে পারেনি তারা। হাসানের শর্ট বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্মিথ। এরপর নাথান লায়নকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টানেন তিনিই।
হাসানের শেষ হিসাবটা দাঁড়ায় ৫৫ রানে ৬ উইকেট। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারেরও সেরা বোলিং। তাসকিন ও ইবাদত নেন দুটি করে উইকেট। বাংলাদেশের পেসাররা দ্বিতীয়বারের মতো কোনো টেস্ট ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলেন।
১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও অবশ্য পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ছিল না। দ্বিতীয় ওভারেই বেঁচে যান তানজিদ হাসান তামিম। মিচেল স্টার্কের বলে লিডিং এজ হয়ে কাভারে উঁচু ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। তবে বলের নিচে গিয়ে সেটি হাতে রাখতে পারেননি নাথান লায়ন।
জীবন পেয়ে তানজিদ আরও ইতিবাচক হয়ে ওঠেন। সাদমান ইসলামও আলগা বল পেলে রান তুলছিলেন। তবে নবম ওভারেই সেই জুটি ভেঙে দেন স্টার্ক। লেগ স্টাম্পের বলে আগেভাগে ব্যাটের ফেস বন্ধ করে ফেলায় লিডিং এজ হয়ে কাভার-পয়েন্টে ধরা পড়েন ২০ রান করা সাদমান।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি তানজিদ ও মুমিনুল। নিজের পরিচিত ছন্দে ইতিবাচক ব্যাটিং করেছেন মুমিনুল। তানজিদও সুযোগ বুঝে রান তুলেছেন। দিন শেষে ৪৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত মুমিনুল, আর ৬৭ বলে ৩২ রানে তানজিদ।
ডারউইনের প্রথম দিন তাই বাংলাদেশের জন্য যেন দুই অধ্যায়ের এক গল্প। প্রথম অধ্যায়ে হাসান-তাসকিন-ইবাদতের পেসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস, দ্বিতীয় অধ্যায়ে মুমিনুল-তানজিদের ব্যাটে পাল্টা জবাব। ১৯৮ রানের বিপরীতে ৯৬ রান তুলে দিন শেষ করা বাংলাদেশ এখন অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে। দীর্ঘ দিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ফিরে প্রথম দিনেই তাই স্বাগতিকদের চাপে ফেলার মতো অবস্থান তৈরি করেছে লাল সবুজ দল!
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































