ছবি: আপন দেশ
আজ ১২ আগস্ট (বুধবার), আন্তর্জাতিক যুব দিবস। বিশ্বব্যাপী তরুণ ও যুবদের সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এ দিন দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের সব দেশের সরকারের মধ্যে তাদের দেশের যুবকদের প্রতি মনোযোগ দেয়া এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সচেতনতা তৈরি করা এ দিবসের লক্ষ্য।
এ বছর আন্তর্জাতিক যুব দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা’।
দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বিশেষ বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে তরুণদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তিনি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আহবান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের তরুণদের মূল চাওয়া এক—মর্যাদাপূর্ণ জীবন, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং উপযুক্ত সুযোগ।
আজকের তারুণ্য মানেই আগামী দিনের ভরসা। তারা শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, এখনই সমাজে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তি, শিক্ষায় উদ্ভাবন, সামাজিক সচেতনতা কিংবা পরিবেশ রক্ষা—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের অবদান এখন চোখে পড়ার মতো।
তবে তাদের পথটা সব সময় মসৃণ নয়। অনেক তরুণ বেকার, কেউ পাচ্ছে না মানসম্মত শিক্ষা, আবার কেউ মানসিক চাপ বা সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি। তবুও তারা থেমে নেই। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে, পরিবার ও সমাজকে কিছু দিতে তারা প্রতিদিন সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
এ তরুণদের সম্মান জানাতেই প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তরুণদের কথা শোনার, তাদের পাশে থাকার এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করার সময় এখনই।
তাদের উৎসাহ, সাহস আর নতুন ভাবনাই পারে একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে। তাই এই দিন শুধু উদযাপনের নয় বরং কাজেরও—যেখানে আমরা সবাই মিলে তরুণদের সম্ভাবনাকে মর্যাদা দিই এবং একসাথে ভবিষ্যতের পথে হাঁটি।
প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস—একটি দিন যা তরুণ-তরুণীদের ক্ষমতা, সৃষ্টিশীলতা ও সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতির জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এ দিনটি প্রথম চালু করে জাতিসংঘ ২০০০ সালে।
তারুণ্যের বিকাশ ও উন্নয়নে ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব মিনিস্টার রেসপনসিবল ফর ইয়ুথ’ ১২ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব করে। পরের বছর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ
যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি, পরিবর্তনের অগ্রদূত ও ভবিষ্যতের নির্মাতা। তরুণদের অদম্য উৎসাহ ও সাহসিকতা দিয়েই নতুন পৃথিবী গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সুবর্ণ সময় (২০০৭-২০৪০) চলছে, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কর্মক্ষম এবং তরুণ। তাই তরুণদের জন্য সরকারের ভাবনা এবং করণীয় নির্ধারণের এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।
জাতিসংঘের হিসাবে পৃথিবীতে ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রায় ২০০ কোটি মানুষ রয়েছে, যারা তরুণ এবং তারা মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ। বাংলাদেশের ‘জাতীয় যুবনীতি’ অনুসারে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের ‘যুব’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বয়সসীমার জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ; যা আনুমানিক ৫ কোটি।
একটি আদর্শ সমাজ গঠনে যুবকদের ভূমিকা অপরিসীম। অফুরন্ত প্রাণশক্তি, অদম্য সাহস ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে তারা সমাজের সব অন্যায়, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায়পরায়ণ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। যুবকরা তাদের সততা, আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে। যেকোনো সামাজিক অবিচার, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে যুবসমাজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের যুবসমাজ, দরিদ্রদের সহায়তায়, পরিবেশ রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন আর্তমানবতার সেবায় সবার আগে এগিয়ে আসে। নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করতে শিক্ষিত যুবকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে বাংলাদেশের যুবসমাজ তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্যোক্তা তৈরি ও অর্থনীতি এবং সামাজিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের নানা ক্ষেত্রে যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং, শান্তির পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হতেও দেখা গেছে যুসমাজকে। বিশ্বব্যাপী নিজেদের অধিকারের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী, অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তরুণরা সোচ্চার। বাংলাদেশের শ্রমশক্তি প্রধানত নির্ভরশীল যুব জনগোষ্ঠীর ওপর।
প্রবাসী শ্রমিক ও তৈরি পোশাক শিল্পে যুবসমাজের অংশগ্রহণই বেশি। তাই দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য যুবসমাজকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত হওয়া দরকার যথাযথ কর্মপরিকল্পনা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































