ছবি : আপন দেশ
টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার অজুহাতে কাঁচাবাজারে সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। বিশেষ করে কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকায় উঠে ছিল। এ কাঁচা পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি অনুমতি দেয় সরকার। আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম এখনও বাড়তি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম কমেছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা।
মুরগি ও ডিম বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে বাজারে বেশির ভাগ সবজি ও মাছের দাম বাড়তি। এতে ডিম ও মুরগির চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
ক্রেতারা বলছেন, মরিচের দাম কিছুটা কমেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু ডিম, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখনো বেশি। এক-দুটি পণ্যের দাম কমলেও মোট বাজার খরচে তেমন কোনো প্রভাব পড়ছে না।
এদিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুনের দাম এখনো কেজিপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা। শসার দামও কিছুটা কমে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা পেঁপে আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙা বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পেঁয়াজের বাজার উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তবে আলুর দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে।
আরও পড়ুন<<>>এক দিনের ব্যবধানে কমলো স্বর্ণের দাম, আজ থেকেই কার্যকর
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। ডিমের ডজন ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। আর সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা ও ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা করে বেড়েছে।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
মুরগির পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ১৫০ টাকা এবং পাড়া–মহল্লার দোকানে তা ১৬০ টাকা দাম রাখা হচ্ছে। প্রতি হালি ডিম এখন ৫০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে শুধুমাত্র গরুর মাংসের দাম।
সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোয়ায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































