Apan Desh | আপন দেশ

সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন পুনর্বিবেচনায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:০৯, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন পুনর্বিবেচনায় সরকার

ছবি: আপন দেশ

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে রফতানির অনুমোদিত পরিমাণ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এর অংশ হিসেবে যেসব প্রতিষ্ঠানকে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তারা বাস্তবে কত পরিমাণ চাল রফতানি করেছে বা করতে সক্ষম হয়েছে— তার তথ্য চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ তথ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জারি করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখার এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

উপসচিব তানিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আগে দেয়া অনুমোদিত রফতানি পরিমাণের সমন্বয় বা হ্রাস করার প্রয়োজন রয়েছে।

চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৩ মে ও ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখের সংশ্লিষ্ট স্মারকের উল্লেখ করে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত রফতানি পরিস্থিতির তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কত পরিমাণ রফতানি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল এবং তার বিপরীতে বাস্তবে কতটুকু রফতানি হয়েছে—এ তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুই দফায় ৪৫ হাজার ৩২০ টন রফতানির অনুমতি

চলতি বছরের জুলাইয়ে সরকার নতুন করে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেয়। ১৪ জুলাইয়ের অনুমোদনে ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ হাজার ৮০০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির সুযোগ দেয়া হয়। 
প্রতিষ্ঠানভেদে সর্বোচ্চ ৫০০ টন পর্যন্ত রফতানির অনুমতি দেয়া হয়। রফতানির অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছিল। প্রতি কেজি চালের ন্যূনতম এফওবি রফতানি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।

এর আগে জুনের শেষ দিকে আরও ২১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ হাজার ৫২০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ফলে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়।

কিন্তু অনুমোদন দেয়ার পর থেকেই দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ছয় মাসে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি চালের খুচরা দাম কেজিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ এর জন্য রফতানির অনুমোদনের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে মিল মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশীয় বাজারেও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে প্রায় দুই বছর পর রফতানির দরজা খোলে

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগে সুগন্ধি চাল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে রফতানি বন্ধের পর প্রায় দুই বছর সুগন্ধি চালের বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যত স্থবির ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সরকার আবার রফতানির অনুমতি দেয়।

ওই দফায় ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার ১৫০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার ৮০০ টন রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়। দুই দফায় ২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ৯৫০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন <<>> জ্বালানি-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালের অনুমোদনে প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের ন্যূনতম রফতানি মূল্য ১ দশমিক ৬০ ডলার নির্ধারণসহ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। রফতানির সময়সীমাও পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা বাড়ানো হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর রফতানির সময়সীমা বৃদ্ধির পৃথক নোটিশও প্রকাশ করে আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর।

বাজার স্থিতিশীলতা বনাম রফতানি—দ্বৈত চাপ

সুগন্ধি চাল বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রফতানির একটি সম্ভাবনাময় খাত। চাহিদা বাড়ায় কৃষকদের একটি অংশ উচ্চমূল্যের এ ধরনের ধান উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন।

ফলে একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুগন্ধি চালের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দেশের ভোক্তা বাজারে দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও রয়েছে। ২০২৫ সালে রপ্তানি পুনরায় চালুর সময়ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল রফতানি নীতির দাবি জানিয়েছিলেন।

এ অবস্থায় ১৩ আগস্টের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি রফতানি নীতিতে নতুন করে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জুলাইয়ে একসঙ্গে ৪৫ হাজার ৩২০ টন রফতানির অনুমোদনের পর বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সরকার এবার অনুমোদিত পরিমাণের বিপরীতে প্রকৃত রফতানি কত হয়েছে, তা যাচাই করতে চাইছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত রফতানি তথ্য পাওয়ার পর সরকার যদি অনুমোদিত কিন্তু এখনো রফতানি না হওয়া চালের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে রফতানিকারকদের জন্য আকস্মিকভাবে অনুমোদন কমানো বা স্থগিত করা হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

ফলে এখন সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—দেশের ভোক্তাদের জন্য সুগন্ধি চালের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় এ রফতানি বাজার ধরে রাখা। ১৩ আগস্টের চিঠির মাধ্যমে রফতানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের পর এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হতে পারে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়