ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে বিদ্রুপের শিকারও হন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার সে পুরস্কার বাতিলের দাবি তুলেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।
ফিফা সভাপতির সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণেই ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে বলে কথিত রয়েছে। এর কিছুদিন আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার লক্ষ্যে মরিয়া ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান। যদিও তাকে শেষমেষ হতাশই হতে হয়েছে। তাই ফিফা প্রদত্ত শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের জন্য ‘সান্ত্বনা’ কি না ওঠে সে প্রশ্নও। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিন ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি ফিফার মানবাধিকার সনদের সঙ্গে উপহাস বলে মন্তব্য করেছেন।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফিফার ওই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
আরভিন বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফিফার মানবাধিকার সনদের প্রচেষ্টাকে উপহাসে পরিণত করে। তারা ফুটবলকে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত সে লক্ষ্যকে পেছনে ঠেলে দেয়। এতে ফুটবলের বর্তমান ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষ করে খেলাটির অভিভাবক সংস্থা সমাজ এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন <<>> আক্রমণই সেরা প্রতিরক্ষা: তাওহীদ হৃদয়
এদিকে, নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন পুরস্কার দেয়া বন্ধ করতে তারা চিঠি লিখবেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই এ পুরস্কার বাতিল করা হোক। এমন কোনো পুরস্কার দেয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না। এ কাজের জন্য স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে নোবেল ইনস্টিটিউট। ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যে শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে, তা ফিফার নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া ফিফার ভেতরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তারা যেন ম্যাচগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না বানান, এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা আদায়ে ফিফাকে চাপ দেবে এনএফএফ।
ক্লাভেনেসের দাবি– আমরা ফিফা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তারা কীভাবে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে আইসিইর কার্যক্রম বা পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, সেটি জানতে চাইব। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবাই যেন নিরাপদে বিশ্বকাপে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারে। আমরা ফিফা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। বিশ্বকাপ হওয়া উচিত সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ।
এছাড়া ‘ফেয়ারস্কয়ার’ নামে একটি প্রচারগোষ্ঠী শান্তি পুরস্কার নিয়ে যে অভিযোগ করেছে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে, সেটিকেও সমর্থন দেবে এনএফএফ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে শুরু হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অভিমত তুলে ধরবেন ক্লাভেনেস।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।























