
টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফির সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের অধিনায়ক
দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ক্রিকেটের মহাদেশীয় লড়াই। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের আসর। বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতির শেষ ধাপে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। দুবাইয়ের বিমানে উঠার আগে ঘরের মাঠে নিজেদের যাছাই করবে টাইগাররা। তারই অংশ হিসেবে শনিবার (৩০ আগস্ট) নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হচ্ছে লাল সবুজ দল। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়াচ্ছেভ।
যেকোনো ফরম্যাটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফর করছে নেদারল্যান্ডস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নেদারল্যান্ডস সিরিজকে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। শক্তি এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির দিক থেকে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সিরিজে স্পষ্টভাবে ফেভারিট বাংলাদেশ।
২০১২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেদারল্যান্ডসের কাছে কোনো ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে টাইগাররা। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচ হেরেছিল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২৫ রানে। কিন্তু ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রেকর্ড পক্ষে থাকার পরও এ সিরিজকে হালকাভাবে নিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি জানান, ডাচদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টাই আমরা করব। প্রথম ম্যাচের আগে লিটন বলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখানে কোন বড় বা ছোট দল নেই।
আরও পড়ুন<<>> হারে এশিয়া কাপ হকিতে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের
এশিয়া কাপকে সামনে রেখে সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন, ‘কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে আমরা আমরা সেটি করব। কিন্তু একই সাথে, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।
গত ১০ দিন ধরে সিলেটে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের রান-বন্যার কথা বিবেচনায় রেখে ঢাকা থেকে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর করা হয়েছে।
সিলেটের প্রস্তুতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে জানান লিটন, এশিয়া কাপে আমরা ভিন্ন-ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলব। এশিয়া কাপে খেলবে এমন দলগুলোকে এখানে আমরা পাচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমার মনে হয় কন্ডিশন একই রকম হবে। কারণ, আমরা সবাই জানি সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো ব্যাটিং উইকেট তৈরি করে। সিলেটও অনেকাংশেই ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট হয়ে থাকে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ জয় প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ হারলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে টাইগারদের। যেকোনো ধরনের ফলাফলের জন্য প্রস্তুত লিটন। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলই ছোট নয়। বাংলাদেশ আগেও বিভিন্ন দলের কাছে হেরেছে। এটা নতুন কিছু নয়। আমরা কতটা ভাল খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল বলে স্বীকার করেছেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। তারপরও নেদারল্যান্ডসের সিরিজ জয়ের সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি। এডওয়ার্ডস বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সিরিজ জিততে পারি। আমরা ভাল ক্রিকেট খেলার আশা করি এবং আমরা যদি ভাল খেলি অবশ্যই আমাদের সাফল্যের সুযোগ আছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের জন্য এটি দারুণ প্রস্তুতির সুযোগ। তাই, এটি উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজ হবে। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। অনেক দলকে বাংলাদেশ সফরে এসে ধুঁকতে হয়। আমরা জানি, এ সিরিজটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে হবে।
বাংলাদেশ দল : লিটন কুমার (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও সাইফুদ্দিন।
নেদারল্যান্ডস দল : স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), নোয়াহ ক্রোয়েস, ম্যাক্স ও’দাউদ, বিক্রমজিত সিং, তেজা নিদামানুরু, সিকান্দার জুলফিকার, সেডরিক ডি ল্যাং, কাইল ক্লেইন, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মেকেরেন, শারিজ আহমেদ, বেন ফ্লেচার, ড্যানিয়েল ডোরাম, সেবাস্টিয়ান ব্র্যাট, টিম প্রিঙ্গেল।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।