Apan Desh | আপন দেশ

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের জন্য ১১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলার জন্য এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) এ সহায়তা অনুমোদনের কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

এ অর্থায়নের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার দেয়া হচ্ছে ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি বা খাদ্য নিরাপত্তায় জরুরি সহায়তা প্রকল্পে। এ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং অক্টোবর ২০২৬ থেকে এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে।

বর্তমানে দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। এর অর্ধেকই হবে ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন <<>> ৪ জেলায় সীমিত পরিসরে আজও ব্যাংক খোলা

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শুধু খাদ্যনিরাপত্তাই হুমকিতে পড়বে না, সে সঙ্গে দারিদ্র্য বাড়বে, প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানেও।

অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ বা আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলার জরুরি কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেয়া হচ্ছে। এ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে আয় স্থিতিশীল রাখা ও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে। এতে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ, পানিসহ জরুরি সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের সংকট থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়