Apan Desh | আপন দেশ

পালাচ্ছে বসুন্ধরা

বিশেষ প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩২, ২৩ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৮, ২৭ জুন ২০২৬

পালাচ্ছে বসুন্ধরা

ফাইল ছবি: আপন দেশ

দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম)। পালাচ্ছেন তার পুত্র বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান পরিচালক সাফওয়ান সোবহানসহ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত পাঁচ সদস্য।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর হাসিনাঘনিষ্ট শিল্পপরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। প্রথমে নিম্ন আদালত এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ করে দেন। নিষেধাজ্ঞা বাতিল কিংবা স্থগিতে বার বার ব্যর্থ চেষ্টার পর এখন প্রতিষ্ঠানটি মরিয়া হয়ে উঠেছে যেকোনো মূল্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে। চাউর আছে এ জন্য বাজেটও বরাদ্দ করেছে অন্তত ২০ কোটি টাকা।

এ লক্ষ্যে বসুন্ধরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, দুদক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে ‘প্যাকেজ ডিল’র আওতায় কার্য সিদ্ধির। অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যক্তিগত চেম্বারের (কক্ষ নং-১১৫, পুরাতন ভবন ) জুনিয়র আইনজীবী মামুন চৌধুরীকে আইনজীবী নিয়োগ করে। ফলে বসুন্ধরার পরিকল্পনা সফল হলে যেকোনো মুহূর্তে পালিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা রয়েছে দুদকের করা নিষেধাজ্ঞার আবেদনেও।

এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 

সূত্রটি জানায়, বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন, ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ (শাহ আলম) পরিবারের ৮ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আহমেদ আকবর সোবহান ছাড়াও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীর, সাদাত সোবহানের স্ত্রী সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান, সায়েম সোবহানের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান।

তাদের মধ্যে সায়েম সোবহান আনভীরসহ তিন সদস্য নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে থেকেই রয়েছেন দেশের বাইরে। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে বাকি ৫ সদস্যের। 

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে ১৩২৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলা : জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারসহ বহুমাত্রিক দুর্নীতি থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাত্র ১৩২৫ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির। তবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য আর্থিক অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান-তদন্ত চলমান। চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্থার সহকারি পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়া বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি যৌথ টিম মামলাটি তদন্ত করছেন।

এজাহারে আসামি করা হয়েছে ২৬ জনকে। তারা হলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিয়াত সোবহান ও পরিচালক ময়নাল হোসাইন চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কয়েক কর্মকর্তা। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের তৎকালিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ (সি.এম. আহমেদ), পরিচালক মনোয়ারা শিকদার, পারভীন হক শিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, রিক হক শিকদার, রন হক শিকদার, মো. আনোয়ার হোসেন এবং একেএম এনামুল হক শামীম।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম ও ‘পলিসি অ্যান্ড প্রসিডিউরাল গাইডলাইনস অন ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ লঙ্ঘন করে বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে ৫৭৫ কোটি টাকার ফান্ডেড এবং ৭৫০ কোটি টাকার নন-ফান্ডেডসহ ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেন। অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর জামানত, ফোর্টনাইট স্টক রিপোর্টে অনুপস্থিতি, গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই না করা, ফাঁকা ও তারিখবিহীন চার্জ ডকুমেন্ট  গ্রহণ, অন্যান্য ব্যাংকে দায়-দেনা যাচাই না করা এবং কারখানা পরিদর্শন ও স্টক রিপোর্ট ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের বিতরণ করা ৫৭৫ কোটি টাকার ফান্ডেড ঋণের পুরো অর্থ পরিশোধ না করে ৫০৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বসুন্ধরা গ্রুপভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। অনলাইন ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ জমা, বিল সমন্বয়, সিসি (হাইপো) ও ওডি ঋণ সমন্বয়, নগদ উত্তোলন এবং ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০১৮ সালের জুন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ঋণের নামে নেয়া বসুন্ধরা গ্রুপের এ আত্মসাতকৃত অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে এসব লেনদেন করা হয়। যা দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং পাচারের মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ পরিবারের ৮ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকা মহানগরের তৎকালিন সিনিয়র বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ নিষেধাজ্ঞা দেন। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা হলেন, আহমেদ আকবর সোবহান, তার স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর, পুত্রবধু সাবরিনা সোবহান, ছেলে সাদাত সোবহান, পুত্রবধু সোনিয়া ফেরদৌস সোবহান, ছেলে শাফিয়াত সোবহান সানভীর এবং সাফওয়ান সোবহান। 

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনে দুদক উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দুদক টিম তদন্ত চালাচ্ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার দুই ছেলেসহ সংশ্লিষ্ট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। আসামিরা দেশত্যাগ করলে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া ব্যহত হতে পারে। 

দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ফ্যানান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং সম্পদ জব্দ করে। পরবর্তীতে ‘চিকিৎসা’র অজুহাত দেখিয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়।

বিএফআইইউর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে, বসুন্ধরা গ্রুপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি ক্রয় করেছে। এ ছাড়া দেশে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। কর ফাঁকি, সরকারি সম্পত্তি গ্রাস, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন। 

ছেলে সাফওয়ানের দুর্নীতি

শুধু আহমেদ আকবর সোবহানই (শাহ আলম) নয়। তার ছেলে সাফওয়ান সোবহানের একক দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) কয়েকটি সংস্থা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কর ফাঁকি, ঋণ জালিয়াতি,মানিলন্ডারিং, জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। এ কারণে তার ওপর (পাসপোর্ট নং-অ০৭৫***৬৩), (ঘওউ-৩২৫২****২৮) ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাফওয়ান সোবহান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও দুবাই-সিঙ্গাপুরের  মতো বিভিন্ন দেশে আফশোর কোম্পানি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি ‘১৪ উইকম্প স্কয়ার’টি সাফওয়ান সোবহানের মালিকানাধীন। এটি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে রেজিস্টার্ড কোম্পানির মাধ্যমে কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই দেশের মূলধন অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের মাধ্যমে সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। সাফওয়ান সোবহান এ অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেও সম্পদদের উৎস বা লেনদেনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে ঋণের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে সাফওয়ান সোবহানের বিরুদ্ধেও।

আরও পড়ুন<> বসুন্ধরার পাচারের টাকায় তিন মহাদেশে আট সাম্রাজ্য! 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এর বড় একটি অংশ পরিশোধ না করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ কারণে দেশের ভেতর প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের মালিকানায় থাকা সম্পত্তি অবরুদ্ধে  করে রেখেছে সিআইডি। এ ছাড়া সাফওয়ান সোবহান এবং তার পরিবারের সদস্যদের অন্তত ৭০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ২২টি কোম্পানিতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যমানের শেয়ারও ফ্রিজ করা হয়েছে। 

দুদকও সাফওয়ান সোবহানসহ আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী-সন্তান,পুত্রবধূদের নামে থাকা যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা সম্পদ আন্তর্জাতিক লিয়াজোঁর মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধভাবে ভূমি জবরদখল ও মানিলন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আগে থেকেই বসুন্ধরা কর্ণধারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে। অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকরা জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যান। 

এ প্রেক্ষাপটে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ অন্তত ৫ কর্ণধার নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকেই দেশত্যাগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তারা নানা ছুতোয় প্রথম সিনিয়র মহানগর দায়রা জজ আদালতে দেশত্যাগের অনুমোদন চান। কিন্তু শুনানি শেষে গত ১০ মে মেট্টো সিনিয়র স্পেশাল জজ মো: সাব্বির ফয়েজের আদালত আবেদনটি নাকচ করে দেন। এরপর তারা মরিয়া হয়ে ওঠেন হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রত্যাহারে। এ লক্ষ্যে তারা সরকারের শীর্ষ আইন কর্মকর্তার সঙ্গে একটি ‘প্যাকেজ ডিল’-এ আসেন বলে চাউর আছে। তার চেম্বারের জুনিয়র অ্যাডভোকেট মামুন চৌধুরীকে (রুম নং ১১৫ মেইন বিল্ডিং) দিয়ে হাইকোর্টে আবেদনের ফাইল ওঠান। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এটি নাকচ করে দেন। পরে সেটি নিয়ে যাওয়া হয় হাইকোর্টের আরেকটি ডিভিশন বেঞ্চে।

জানা গেছে, এ ধরনের অন্য শুনানিগুলোর ক্ষেত্রে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কিংবা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের পাঠানো হয়। কিন্তু বসুন্ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস স্বয়ং উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি। কারণ বুসন্ধরা গ্রুপ এক সময় তার চেম্বারের ক্লায়েন্ট ছিল। ফলে দেশত্যাগের পরিকল্পনার সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে, এমন সন্দেহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। তদুপরি বসুন্ধরা গ্রুপ হাইকোর্টে এমন একটি বেঞ্চ খুঁজছে, যে বেঞ্চ দুদকের আইনজীবী না থাকাসহ তাদের দেশে না ফেরার প্রশ্ন মেনে নিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন।  

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস-এর ব্যক্তিগত চেম্বার।

বসুন্ধরা গ্রুপের পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আবেদনে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হচ্ছে, বসুন্ধরা গ্রুপ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পিটিশনে (ক্রিমিনাল রিভিশন নং-৩৫৩৭/২০২৬) পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ঢাকা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ইমিগ্রেশন, এসএস (ইমিগ্রেশন) এবং ওসি ইনচার্জ (ইমিগ্রেশন)। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রদানকারী সংস্থা হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদককে তাই ২ নম্বর বিবাদী করা হয়েছে। অথচ দুদকের পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবীই আদালতে থাকছেন না। অর্থাৎ দুদককে পাশ কাটিয়ে নিষেধাজ্ঞা রদ করার কৌশল নিয়েছে।

কারণ এ  মুহূর্তে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কন্টেস্ট করার জন্য দুদকের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এ সুবিধাটিই নিতে চাইছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নির্দিষ্ট কোনো মামলার জন্য আইনজীবী নিয়োগের এখতিয়ার শুধু কমিশনের। দুদকে এখন কোনো কমিশন নেই। ফলে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। ফলে দুদককে এড়িয়ে হাইকোর্ট থেকে যেনোতেন কোনো আদেশ নিতে পারলেই কেল্লাফতে। আগে থেকে রেডি হয়ে থাকা চার্টার বিমানে দেশ ছাড়বেন তারা।

যদিও দেশত্যাগের কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়িক জরুরি মিটিং, ভিজিট ও প্রয়োজনীয় এমওইউ এবং চুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক জরুরি প্রয়োজনের কথা। কিন্তু ইতোপূর্বে মহানগর দায়রা জজ আদালতে সরকারপক্ষীয় আইনজীবী (স্পেশার পিপি) তারা দেশে ফিরবেন না-মর্মে জোর আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে ওই আইনজীবী বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আহমেদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবর-দখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ.অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তরের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দরখাস্তকারীরা (আহমেদ আকবর সোবহান গং)-এর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তারা বিদেশ গেলে দেশে ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অর্থ পাচার ও দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন মর্মে তথ্য রয়েছে। 

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

শীর্ষ সংবাদ:

হাসিনার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়: তদন্ত তরুণদের নেতৃত্বেই প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের লাভ নিশ্চিত করা হবে: আইনমন্ত্রী রংপুর-লালমনিরহাট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ নাটোরে বাস-ভুটভুটির সংঘর্ষে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষার আগেই ফেল শান্তরা ইরান যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে সরে আসা উচিত: মার্কিন জেনারেল ট্রাম্পের বিলাসী ’বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত
Footer Advertisement