Apan Desh | আপন দেশ

ভোটের পরিবেশ নিয়ে যা বললেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:২৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১০:২৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভোটের পরিবেশ নিয়ে যা বললেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সারাদেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। শীতের সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি যেমন বাড়ছে, তেমনি উৎসবমুখর পরিবেশে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোটদান শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তারা নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন।

ভোট প্রদান শেষে তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন, এটি গণতন্ত্রের জয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। সকালে ৯টা ৪৫ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো। আমরা আশা করি, এ পথ মসৃণ হবে আগামী দিনগুলোতে। মানুষের জীবনকে, বাংলাদেশের রাজনীতিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুন্দরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আশা করছি, এ নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমাদের প্রত্যাশায় এ নির্বাচন বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করবে। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ভোট দিয়ে বলেন, বহু বছর দেশবাসী ভোট দিতে পারেননি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালে জেলেই ছিলাম, ভোট দেয়ার সুযোগনি। এ তিনটা ভোট হারানোর পরে আজকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ভোট দেয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এ ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দিন।

ঢাকা ১১ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম ভোট দিয়ে বলেন, আমি নিরব ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। ভোটারদের প্রতি আহবান জানাবো ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে আসনুন। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন সুষ্ঠু বললে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক,তা মেনে নেব।

ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ভোট দিয়ে বলেন, ভোটের পরিবেশের কোনো সমস্যা দেখিনি। ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। খুব বেশি না, মোটামুটি। কিছু মানুষ ভোট দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা না হয়, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যদি নির্বাচন হয় ও সাধারণ ভোটাররা যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে ফলাফল যাই হোক সেটা মেনে নেব।

বরিশাল-৩ আসনের এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ভোট দিয়ে বলেন, বরিশালে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও শঙ্কা ও ভয়ভীতির আশঙ্কা রয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভোট বর্জনের কোনও ইচ্ছা তার নেই। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে পরাজয় হলেও তা মেনে নেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভোট দিয়ে বলেন, ভোটের পরিবেশে সুন্দর ও স্বাভাবিক রয়েছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশায় রক্ত দিয়েছেন, আমাদের সন্তানের শহীদ হয়েছেন সে প্রত্যাশা-স্বপ্ন আকাশচুম্বী। গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ভোট দিয়ে বলেন, নির্বাচনে কেউ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। সবাই এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনের যে বিজয়ী হবেন, আমি তার সঙ্গেই মিলেমিশে কাজ করতে চাই। জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দেবে, সেটি মেনে নেবো। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ভোট দিয়ে বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এ পরিবেশের মাধ্যমে দেশবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে আমরা যেন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারি। পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারি। যার মাধ্যমে আমরা লক্ষ্মীপুরবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আগামী দিনে আমাদের উন্নয়নের অব্যাহত ধারা বজায় রাখবে। সবার পাশে আছি, সবার পাশে থাকব। 

ভোট দিয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমার আসনের ১ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের প্রথম ভোট। এজন্য একটা আগ্রহ আছে, উৎসাহ আছে। বেলা গড়াক, বেলা গড়ানোর সাথে সাথে ভোটের যে পরিস্থিতি সেটা কতটা পরিবর্তন হয়... উৎসাহটা আশা করি বজায় থাকবে ও সবাই উৎসাহে ভোট দিতে আসবে। এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো ভোটকেন্দ্রে টেকনিক্যাল বা প্রক্রিয়াগত কোনো জটিলতার খবর পায়নি। আমরা কোনো সহিংসতা, শঙ্কা এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে চাই। ভোট উৎসবের মতো, ভোট তো ভয়ের না। মানুষ যার যা ইচ্ছা, যাকে ইচ্ছা ভোট দেবে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়