Apan Desh | আপন দেশ

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১০:২৭, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আজ

ছবি : আপন দেশ

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। এ বছর জাতির গ্রন্থাগার দিবসের স্লোগান হলো ‘জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি’। জ্ঞানের আধার হলো বই, আর বইয়ের আবাসস্থল হলো গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মাস, বইমেলার মাস। এ মাসেই জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হচ্ছে। 

১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে মানুষের কাছে গ্রন্থাগারকে জনপ্রিয় করা, গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে প্র্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়ে আসছে। 

সর্বস্তরের মানুষকে গ্রন্থাগারমুখী করে তোলার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হয়। কোনো দিবস পালন করার উদ্দেশ্য থাকে ওই বিষয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলা। জ্ঞানার্জন, চেতনা, মূল্যবোধের বিকাশ, গবেষণা, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গ্রন্থাগারের অপরিসীম ভূমিকা রাখার প্রত্যাশায় গ্রন্থাগার দিবসের প্রবর্তন।

গ্রন্থাগার দিবসের আবেদন হলো গ্রন্থাগারের বার্তা সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া; সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রন্থাগারের সেবা পৌঁছে দেয়া। তথ্যসমৃদ্ধ জনগণ রাষ্ট্রের জন্য সম্পদ, তাই তথ্য পৌঁছে দিতে গ্রন্থাগারকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা রাষ্ট্রের কর্তব্য। আলোকিত ও সত্যিকার শিক্ষিত সচেতন দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করছে। 

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালনের তাৎপর্য দেশের মানুষ, বর্তমান প্রজন্মকে বইপড়া, জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা চর্চায় কতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের বেশিরভাগ মানুষ এ দিবস সম্পর্কে অবগত নন। মানুষ এখনো জানেন না, এ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কী?  বর্তমান প্রজন্মের মাঝে দিন দিন বইবিমুখতা বাড়ছে। 

আরও পড়ুন<<>>জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে ৩০ দেশের রাষ্ট্রদূত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেই বই পড়ার চর্চা। নেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শুধু গাইড বই মুখস্থ নির্ভরতা আর সরকারি আমলা-কেরানি হওয়ার প্রতিযোগিতায় বিভোর প্রজন্ম। জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠন ছাড়া আমাদের পরিপূর্ণ মুক্তি বা সমৃদ্ধি সম্ভব নয়।  

দুঃখজনক যে, বইবিমুখ সৃজনশীলতা বিবর্জিত একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে। বই ছেড়ে তরুণ প্রজন্ম এখন স্মার্টফোনে ব্যস্ত। অথচ এ বিষয়ে ভাবার কেউ নেই! আমরা ভুলেই গেছি, তরুণ প্রজন্মের সঠিক পরিচর্যা ও তাদের বেড়ে ওঠার ওপরই নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ। গ্রন্থাগার আমাদের আলোর পথের নীরব পথপ্রদর্শক। 

সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির বিকল্প নেই। পুরনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে গ্রন্থাগারগুলোকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা দরকার। প্রজন্মকে বইপড়া, জ্ঞানচর্চায় মুক্তচিন্তায় উৎসাহিত করতে হবে এবং এর জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। 

প্রতিটি জেলায় একটি মডেল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা ভীষণ প্রয়োজন। দেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটেছে  কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি ও মননশীলতার কি সে ধরনের কোনো উন্নয়ন হয়েছে? সাংস্কৃতিক জাগরণ ও মননশীলতার উন্নয়ন ছাড়া জাতির সমৃদ্ধি ও পরিপূর্ণ মুক্তি সম্ভব নয়।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়