ছবি : আপন দেশ
পবিত্র শবে বরাত শেষে রমজান মাসে অপেক্ষায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। তবে রোজা শুরু হতে এখনও দুই সপ্তাহ বাকি। তার আগেই বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে লেবু ও শসা। এখন থেকেই ইফতারের সময় প্রয়োজনীয় এ দুটি কাঁচা পন্যের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ঊর্ধ্বমূখী মাছ, মাংস ও মুরগির বাজারও।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।
ইতিপূর্বে দেখা গেছে, প্রথম রোজায় লেবু শসার দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। কিন্তু এবারে রোজার দুই সপ্তাহ আগেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। কমলাপুর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা আরিফুল বলেন, এবার শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করে। যদিও প্রতি বছর লেবুর দাম বেড়ে যায় রোজার শুরুতে। সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও বাজারে প্রচুর লেবু এসেছে। তবুও দাম বেশি। কেনা বেশি পড়লে আমাদেরও বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। আর দাম বেড়ে যাওয়ায় লেবুর বিক্রি কমে গেছে।
বাজারে বড় সাইজের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যদিও এই লেবুর দাম সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। আর ছোট আকারের লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম আরও আগেই বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। কোথাও কোথাও অবশ্য ৮০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রতি বছর চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের মতো পণ্যগুলো নিয়ে হইচই হলেও এবারে এখনো পর্যন্ত সহনীয় রয়েছে এসব পণ্যের দাম। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। মাসখানেক আগে ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। এক বছর আগে দাম আরও বেশি ছিল। গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি ছোলা কিনতে ভোক্তার খরচ করতে হয়েছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা।
প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। গত বছরের একই সময় এ ধরনের ডালের কেজি বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের কেজি গত বছরের এ সময় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। একই পরিস্থিতি রয়েছে চিনির বাজারে। এক মাস আগে চিনির কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। গত বছরের এ সময় এক কেজি চিনি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছেল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।
বাজারে পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। মাত্রই মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে, এ কারণে দামও সহনীয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>রোজার আগে বাজারে উত্তাপ, মাছ-মুরগির দাম চড়া
চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের দাম কম হলেও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ এবং খোলা সয়াবিন ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকা দরে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম তিন থেকে ১০ শতাংশ এবং পামওয়েলের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
ডিমের দাম আরও কমেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে। তবে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামে মুরগি বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতি কেজি সোনালী মুরগির দাম শবেবরাতের আগে ২৮০-২৯০ টাকা বেড়ে এখন ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়।
গরু মাংস বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ার পেছনে তাদের দোষ নেই। হাটে গরুর দাম বাড়ায় মাংসের দাম বাড়াতে হচ্ছে।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শীতকালীন সবজি এখনো প্রতি কেজি ৬০ টাকার মধ্যে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ও বেগুন প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে মুলা, টমেটো, পেঁপে, শালগম ও ব্রকোলির দামও তুলনামূলক সহনীয়। পেঁয়াজের দামও বেশ কমেছে। এবার সবচেয়ে বেশি স্বস্তি মিলেছে আলুতে। নতুন আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ এখনো ভালো থাকায় দাম সহনীয়। তবে সামনে রোজা, তাই শসা, লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম একটু বাড়তির দিকে।
রোজার অন্যতম পণ্য খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর; কেজি ২৮০ টাকা। এ খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলের দামও কিছুটা বেড়েছে। আপেল, নাশপাতি, আনার, কমলার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































