Apan Desh | আপন দেশ

পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বিপর্যয়ের চিহ্ন

হাছনুর রহমান খান

প্রকাশিত: ১৭:৪০, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বিপর্যয়ের চিহ্ন

ফাইল ছবি

২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফল অনুযায়ী দেশের মোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার পরিক্ষার্থীর যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৮.৮৩ শতাংশ শিক্ষাথী, যা বিগত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অপরদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪১.১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা সংখ্যার হিসেবে ৫ লাখেরও বেশি। এমন ফলাফলকে অনেকেই ‘শিক্ষা খাতে বিপর্য়য়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এর আগে ২০০৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে গড় পাশের হার ছিল ৫৯.১৬ শতাংশ। গত ২০ বছরে পাশের হার সসবসময় ৬০ শতাংশের উপরে ছিল এবং কখনো কখনো তা ৮০ শতাংশের আশেপাশে ছিল। এর আগে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলেও পাশের হার নেমে আসে ৬৮ শতাংশের মধ্যে, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কারণ হিসেবে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মুল্যায়ন না করে গ্রেস মার্কিংয়ের মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাপিয়ে ভালো ফলাফল দেখানো হতো।এখন শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখছেন, মুল্যায়নের পর সেটিরই প্রতিফলন ঘটছে গড় রেজাল্টে। 

তবে অনেক শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অতীতে ভাল ফল দেখানোর চেষ্টা কিংবা এখন সঠিক মুল্যায়নের দাবি করে ফলাফল খারাপ বা ভালো যেটিই হোক না কেন, এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যা শেখার কথা তা শিখছে কিনা ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মমিনুর রশীদ বলেছেন, ফলাফল খারাপ বা ভালো হওয়ার পেছনে কেবল রাজনৈতিক কারণ খুজলেই হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া কতটা হচ্ছে, শিক্ষকরা আসলে ক্লাসে পড়ান কিনা এগুলোও দেখা দরকার। তাছাড়া শুধুমাত্র একটি পরীক্ষাই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নির্ধারণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত মুল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মুল্যায়ন করতে পারছে কিনা সেটাও ভাববার বিষয়। 

আমাদের বর্তমান মুল্যায়ন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা য়ায়, যারা জিপিএ-৫ পেয়েছেন তারা মেধাবী হিসেবে বিবেচিত হন। অপরদিকে এক নম্বর কম পাওয়ার কারণে যে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলো না সে মেধার ক্রমানুসারে এক পেছনের তালিকায় পড়ে যায়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বা অন্যান্য মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগীতায় অনেক ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চেয়ে জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে। তাছাড়া, বিগত বছরগুলোতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ন্যুনতম নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ না হওয়া, সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার মত ঘটনাও আমাদের অজানা নয়। এমতাবস্থায়, শিক্ষা ও গবেষণার একজন ছাত্র হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে জিপিএ-৫ পাওয়া না পাওয়া কিংবা একটি পরীক্ষায় পাশ-ফেল করা কি একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধার মুল্যায়ন করছে?

প্রশ্নটির উত্তর খুজতে “মুল্যায়ন পদ্ধতি” বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনমান, শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রচলিত মুল্যায়ন পদ্ধতি যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মুল্যায়ন পদ্ধতি দুইভাগে বিভক্ত। ১. শিখনকালীন মুল্যায়ন- এটি পুরো শিক্ষাবর্ষ জুড়ে চলতে থাকে এবং শিক্ষাথীর শিখনে সহায়তা করে থাকে। ২. সামষ্টিক মুল্যায়ন- এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রেড বা নাম্বার দেয়ার ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতার মুল্যায়ন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম ফারিস কর্তৃক উদ্ভাবিত গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। ১৯৯১ সালে সর্বপ্রথম বুয়েটে এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ডিভিশন সিস্টেম চালু ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বের সঙ্গেমানানসই না হওয়ায় এটি পরিবর্তন করে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে উইলিয়াম ফারিস মুল্যায়নের এমন কোনো স্কেল আবিষ্কার করেননি যা সব দেশের , সব সংস্কৃতির সব আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্য প্রযোজ্য হবে।

এতদস্বত্বেও প্রশ্ন জাগতে পারে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের শিক্ষার্থীদের মুল্যায়নের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে সঠিক মুল্যায়ন কেনো সঠিক হবে না? উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে, বিভিন্ন দেশ তাদের গ্রেডিং পদ্ধতিকে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্নভাবে সাজিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় চলছে। অর্থাৎ এক দশক আগেও যে পদ্ধতি ছিল বর্তমানেও সে একই পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থীকে মুল্যায়ন করা হচ্ছে। অথচ দশ বছর আগের একজন শিক্ষার্থীর শিখন যোগ্যতা , পরিবেশ কখনোই আজকের সঙ্গেমিলতে পারে না। তাছাড়া এই গ্রেডিং সিস্টেমের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে । এর মাধ্যমে একই গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটা গ্রুপ করে ফেলা হয়। প্রত্যেককে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। একই গ্রেড পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সমান হিসেবে ধরা হয়, তাদের ডেভেলপমেন্ট, জানার পরিধি, আগ্রহ কতটুকু তা বিবেচনা করা হয় না ।

ফলে শিক্ষার্থীরা ভালো গ্রেড পেতে যতটুকু পড়ালেখা প্রয়োজন তার বাইরে কিছু চিন্তা করতে চায় না। আবার এক -দুই নম্বরের ব্যবধানের কারণে অনেকে গ্রেড মিস করে নিচের গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হন যা তার পরবর্তী শিক্ষাজীবনে ও ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। একটু সহজ করে বুঝার চেষ্টা করি, ধরুন একজন শিক্ষার্থী কোনো এক বিষয়ে জিপিএ-৫(এ+) পেয়েছে, অন্য একজন ‘জিপিএ-৪(এ)’ গ্রেড পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে মেধাবী হিসেবে ধরব। কিন্তু তাদের প্রাপ্ত নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮১ পেয়েছেন, অপরজন পেয়েছেন ৭৯।

অতএব, মাত্র দুই নম্বরের ব্যবধানের কারণে একজন শিক্ষার্থীর মেধাকে গড়পরতা বিবেচনা করে তাকে পুরো এক গ্রেড নিচে নামিয়ে দেয়া হলো। যা শিক্ষার্থীর মনোবল নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। এখানেই দৃশ্যমান হয় এ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা। যদি ৭৯ নম্বর  পাওয়া শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র অন্য কোনো পরীক্ষক দিয়ে দেখা হয় তবে দেখা যাবে সে উক্ত বিষয়ে ৮৩ সাম্বার পেয়েছে অর্থাৎ জিপিএ-৫ পেয়েছে। কেননা, পরীক্ষকের মুল্যায়ন পদ্ধতি, দক্ষতা ও কৌশল একেক জনের একেক রকম। অনেক সময় তা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মেজাজের উপরও নির্ভর করে। একই উত্তরে কোনো পরীক্ষক ৫ মার্কস দিচ্ছেন আবার অন্য একজন উত্তর পছন্দ না হওয়ায় দিচ্ছেন ২ মার্কস। যা শিক্ষার্থীর মধ্যে গ্রেডের তারতম্য ঘটাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মুল্যায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, সিলেবাস একই হওয়া স্বত্ত্বেও একই পাবলিক পরীক্ষায় একেক বোর্ডে একেক মানের প্রশ্ন হওয়া। বাংলাদেশে ১১ টি শিক্ষাবোর্ডের (৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, ১টি মাদ্রাসা ও ১টি কারিগরি শিক্ষাবোর্ড) মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেখা যাচ্ছে, কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্নপত্র দিয়ে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই পাশ করছে , আবার অন্য একটি বোডের্র প্রশ্নের মান ভিন্ন হওয়ার কারণে অনাকাঙ্খিত ফলাফল করছে। তাছাড়া শিক্ষার পরিবেশও একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপুর্ণ। শহরের একজন শিক্ষার্থী ভালো স্কুল, শিক্ষক পাচ্ছে অপরদিকে একজন গ্রামের শিক্ষার্থী সে তুলনায় উপযুক্ত শিক্ষক ও পরিবেশ খুব কমই পায়। ফলে তার মেধা থাকা স্বত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছে এবং তার মেধার সঠিক মুল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

যেহেতু এ মুল্যায়ন পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাই একজন শিক্ষার্থী  তার শিক্ষাবর্ষের পুরোটা সময় ভালো করলেও যদি পরীক্ষার দিন কোনো পারিপার্শ্বিক দুরাবস্থার (যেমন অসুস্থতা, পারিবারিক জটিলতা, মানসিক দুর্বলতা ইত্যাদি) কারণে পরীক্ষার দিন ভালো করতে ব্যর্থ হয় তবে সেটির খারাপ প্রভাব তার মুল রেজাল্টে গিয়ে পড়ে। তার মানে, সে মেধাবী হওয়া স্বত্ত্বেও নির্দিষ্ট পরীক্ষায় নিজেকে প্রকাশ করতে না পারলে তার সারাবছরের অর্জন ঢাকা পড়ে যায়,তাকে অযোগ্য হিসেবে বিবেনা করা হয়। তাছাড়া পরীক্ষার হলে নকল, শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, প্রশ্নফাঁস, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, শিক্ষকদের খাতা দেখার উদারনীতি, মুল্যায়নের দৃষ্টিভঙ্গি সব কিছুই একজন শিক্ষার্থীর মেধার প্রকৃত মুল্যায়ন করার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে।

গত দেড় দশকে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতি অন্তত তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- গ্রেডিং পদ্ধতি, এসবিএ (স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন) ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন। বর্তমানে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সরাসরি যোগ করে ফলাফল দেয়া হয়। সম্ভবত পৃথিবীর কোথাও এটা করা হয় না। এতে একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে ভালো ছাত্র আর দুর্বল ছাত্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। এর একটা ভালো সমাধান হতে পারে ‘স্টান্ডার্ডাইজেশন’ পদ্ধতি। বর্তমানে আইইএলটিএস, টোফেল, স্যাট, জিআরই এমনকি ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষাসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষায় এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। গ্রেডিং সিস্টেম বহাল রেখেই এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর ফলাফল তৈরি করা যাবে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী, খাতায় প্রাপ্ত নম্বর সরাসরি শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর থেকে ওই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় সংখ্যা দিয়ে বিয়োগ করা হবে। এরপর প্রাপ্ত ফল ওই বিষয়ে সব শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির তারতম্য (স্টান্ডার্ড ডেভিয়েশন) দিয়ে ভাগ করা হবে। এরপর যা আসবে সেটিই শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে। ‘স্টান্ডার্ডাইজেশন’ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়নে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে, প্রশ্নপত্রের মান বা তা কতটা কঠিন-সহজ ছিল, পরীক্ষকের নম্বর দেয়ার প্রবণতা বা তিনি কম-বেশি নম্বর দিয়েছেন কিনা ইত্যাদি। এ ছাড়া পরীক্ষার হলের পরিবেশ, উত্তর দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীর প্রশ্ন নির্ধারণের ক্ষমতা (সহজ না কঠিন প্রশ্ন বেছে নিয়েছে) বিবেচনায় নেয়া হয়। 
ক্লাসরুমে পাঠদান (শিক্ষক কতটা সফলভাবে পড়িয়েছেন), জেন্ডার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফল পায়। কিন্তু এটা তার সত্যিকার প্রাপ্ত নম্বর নয়। প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তির চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। কেননা, সেখানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্য গ্রেডের শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়। এর মানে হচ্ছে, কম জিপিএধারীরা ভালো ছাত্র ছিল। তাই স্টান্ডার্ডাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীর র‌্যাঙ্ক অর্ডারে (যে রেজাল্ট করার কথা) কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং মেধার প্রকৃত মুল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

আমাদের দেশের মূল্যায়ন পদ্ধতি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ করে দিয়েছে। আমাদের কারিকুলাম, পাঠ্যবই আধুনিক নয়, অনেক টিচাররাই মানসম্পন্ন নন, অভিভাবকদের মধ্যে বিকৃত প্রতিযোগীতামূলক মনোভাব, অ্যাডুকেশনের সঙ্গেবাস্তব জীবনের কোন সম্পর্ক না থাকায় প্রতিবছর পাশ-ফেলের হিসাব করছি ঠিকই কিন্তু প্রকৃত অর্থে শিক্ষার মান বাড়ছে না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় পাশের জন্যই পড়ে, শিক্ষকেরাও পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্যই পড়ান। এর বাইরে আর কিছু নেই। এ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সহযোগিতার কোন স্থান নেই। প্রতি বছর শেষের পরীক্ষাগুলো আমাদের সবাইকে একটা ছাঁচে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে প্রতিযোগীতাকে আমাদের জীবন থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার রেজাল্ট, চাকুরি পাওয়া- আমাদের মত একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মূল্যায়ন পদ্ধতির মধ্যে যদি বড় ধরণের ভুল কিছু থাকে, তাহলে এর খেসারত প্রজন্মের পর প্রজন্মকে দিয়ে যেতে হবে। তাই শিক্ষার সত্যিকারের লক্ষ্য অর্জনে ও শিক্ষার্থীর মেধার প্রকৃত মুল্যায়নে যুগোপযুগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, মানসম্মত আধুনিক পাঠ্যবই ও সময়োপযোগী মুল্যায়ন পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়