ছবি: আপন দেশ
আজ ০১ জুন (সোমবার) বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। ২০০১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দিনটিকে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছর থেকে বৈশ্বিক খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য অন্তর্ভুক্তকরণে উৎসাহিত দিতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
দুধ শুধু পুষ্টিকর খাদ্য নয়; এটি কৃষি, জনস্বাস্থ্য, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৬ সালের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল বার্তা নারী খামারিদের অবদানকে সামনে আনে—‘সেলিব্রেটিং উইমেন ফার্মার্স’। তাই এবারের দিনটি দুধের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি সেন্সর, জিনভিত্তিক নির্বাচন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নারী খামারির ভূমিকা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে “দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা” শীর্ষক আলোচনা সভা, র্যালি এবং দুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি), ঢাকায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সকালে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর প্রাঙ্গণে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করেন। পরবর্তীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি মোড় হয়ে কেআইবি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
আরও পড়ুন<<>>আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস
বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নারী খামারিদের অবদান তুলে ধরাই এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। আলোচনা সভায় নারী খামারিদের সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের দুগ্ধ খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দেশে মোট দুধ উৎপাদন হয়েছে ১৫৫.৩৮ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে মোট চাহিদা ছিল ১৬২.২২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ জাতীয় চাহিদার প্রায় ৯৬ শতাংশ দুধ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে প্রতিদিন মাথাপিছু ২৫০ মিলিলিটার দুধ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে দেশে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে ২৩৯.২৯ মিলিলিটার।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দুগ্ধ খামারের বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রম যেমন দুধ দোহন, পশুকে খাদ্য প্রদান, বাছুরের পরিচর্যা, গোয়ালঘর পরিষ্কার ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাজে প্রায় ৬০–৯০ শতাংশ শ্রম নারীরা প্রদান করেন। এসবই দেশের দুগ্ধ খাতের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং খামারিদের নিরলস পরিশ্রমের প্রতিফলন।
বিশেষ করে নারী খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে গবাদিপশু পালন, দুধ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা শুধু পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করছে না, বরং পুষ্টি নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬-এর আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে “দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা” এ বছরের জাতীয় আয়োজনের মাধ্যমে দুগ্ধ খাতে নারীদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































