ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। টানা কয়েক দিন ধরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। শনিবার (০৭ মার্চ) অন্তত ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত আট দিনে মোট ২৯৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই বিভিন্ন দেশের আকাশপথ ও বিমানবন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করে।
ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে মাস্কাট ও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট। কয়েক দিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইটও বাতিল হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ২টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ১টি এবং সৌদি আরবগামী ৫টি ফ্লাইট ছিল।
১ মার্চ বাতিল হয় মোট ২০টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৪টি এবং সৌদি আরবগামী ১৬টি ফ্লাইট ছিল। এছাড়া ২ মার্চ বাতিল হয় ১৮টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৫টি এবং সৌদি আরবগামী ১৩টি।
৩ মার্চেও বাতিল হয়েছে ২২টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৭টি এবং সৌদি আরবগামী ১৫টি ফ্লাইট ছিল। ৪ মার্চ বাতিল হয় ৩৫টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৮টি, সৌদি আরবগামী ২১টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ৬টি ফ্লাইট ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দুবাইগামী ৪টি এবং শারজাহগামী ২টি ফ্লাইট ছিল।
৫ মার্চ বাতিল হয় ৩৮টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ১০টি, সৌদি আরবগামী ২২টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ৬টি ফ্লাইট ছিল। ওই ৬টির মধ্যে দুবাইগামী ৪টি ও শারজাহগামী ২টি।
৬ মার্চ বাতিল হয় ৩৪টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৬টি, সৌদি আরবগামী ১৫টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১৩টি ফ্লাইট ছিল। এর মধ্যে দুবাইগামী ৮টি, আবুধাবিগামী ২টি এবং শারজাহগামী ৩টি ফ্লাইট।
৭ মার্চ বাতিল হয়েছে ৪১টি ফ্লাইট। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৬টি, সৌদি আরবগামী ১৮টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এই ১৭টির মধ্যে দুবাইগামী ১১টি, আবুধাবিগামী ৩টি এবং শারজাহগামী ৩টি।
আরও পড়ুন <<>> ‘সরবরাহ বাড়াতে শিগগিরই আসছে তেলবাহী দুটি জাহাজ’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহা—এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ১টি আগমন ফ্লাইট এবং ২টি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ২টি আগমন এবং ২টি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ১টি আগমন ও ২টি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এছাড়া সালাম এয়ারের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ১টি আগমন ও ১টি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তবে সীমিত আকারে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করছে। সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আগমন ফ্লাইট এবং চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি এবং মাস্কাট থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আগমন ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে শনিবারের ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলসহ ওই বিমানবন্দর থেকে মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এমন অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































