Apan Desh | আপন দেশ

‘সরবরাহ বাড়াতে শিগগিরই আসছে তেলবাহী দুটি জাহাজ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ৭ মার্চ ২০২৬

‘সরবরাহ বাড়াতে শিগগিরই আসছে তেলবাহী দুটি জাহাজ’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ফাইল ছবি

দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। খুব শিগগিরই তেলবাহী আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।

শনিবার (০৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীকে জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তেলের বাজারে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য রোববার (০৮ মার্চ) থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।  সোমবার (০৯ মার্চ) তেলবাহী দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। যে কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল তেল নেয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

পাম্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত তেল কিনেছেন। বেশির ভাগ গাড়িচালক অকটেন ও পেট্রল দিয়ে ট্যাংক পূর্ণ করে নিয়েছেন। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে শুক্রবার তেল সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল ও মাইক্রোবাস দিনে সর্বোচ্চ ২০-২৫ লিটার তেল নিতে পারবে। পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০-৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০-২২০ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবে।

আরও পড়ুন <<>> দৈনিক তেলে পরিমাণ নির্ধারণ, রাইডারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাঝে মাঝে সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ডিলার ও গ্রাহক প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অবৈধভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন।

মূলত এ আতঙ্কিত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ ঠেকাতেই তেল বিক্রির ক্ষেত্রে রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে গ্রাহকদের রসিদ দিতে হবে।

ডিলাররা যখন ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করবেন, তখন তাদের আগের দিনের বিক্রি ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্যের গরমিল পাওয়া গেলে বা বরাদ্দের বেশি তেল চাওয়া হলে সরবরাহ দেয়া হবে না।

বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে। সংস্থাটি আশা করছে, খুব শিগগিরই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত ‘বাফার মজুত’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কিনতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। জানা গেছে, রোববার থেকে এ নতুন নিয়ম সারা দেশে কার্যকর হবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়