ছবি : সংগৃহীত
ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল পর্দার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে তা চোখের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্ধকার ঘরে মাত্র ১৫ মিনিট ফোনের উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলেও সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘ক্ষণস্থায়ী স্মার্টফোন অন্ধত্ব’।
যদিও এটি সাধারণত স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয় না, তবু হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
দৃষ্টিবিজ্ঞানবিষয়ক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণত তখনই এ সমস্যা দেখা দেয় যখন একটি চোখ উজ্জ্বল আলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অন্য চোখ অন্ধকার পরিবেশে থাকে।
অনেকেই একপাশে কাত হয়ে শুয়ে ফোন ব্যবহার করেন। এসময় একটি চোখ পর্দার আলোতে থাকে, আর অন্য চোখ বালিশ বা শরীরের অবস্থানের কারণে আংশিকভাবে ঢাকা পড়ে যায়। ফলে দুটি চোখ আলোর সঙ্গে ভিন্নভাবে খাপ খাইয়ে নেয়।
ফোন ব্যবহার বন্ধ করার পর দুই চোখের প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য দেখা দেয়। এর ফলে একটি চোখে সাময়িকভাবে ঝাপসা দেখা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা কিছু সময়ের জন্য ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হয়ে আসে। গবেষণায় এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এ অবস্থা চোখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।
তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। কারণ উজ্জ্বল পর্দার আলো চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> নাক বন্ধ? স্বস্তি দিতে পারে কাঁচা মরিচ
এর ফলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। অনেকের চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। ফোন ব্যবহার করার সময় সাধারণত মানুষ কম পলক ফেলে। এতে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
অন্ধকারে ফোন ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। স্মার্টফোনের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্রে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
রাতের বেলায় এ আলোর সংস্পর্শে থাকলে মেলাটোনিন নামের হরমোনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এ হরমোন ঘুমের অনুভূতি তৈরি করতে সহায়তা করে।
ফলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। পাশাপাশি গভীর ও আরামদায়ক ঘুমও ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত আলোযুক্ত পরিবেশে ফোন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সন্ধ্যার পর পর্দার উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা এবং ঘুমানোর আগে কিছু সময় ফোন দূরে রাখাও উপকারী।
তাদের মতে, এসব সহজ অভ্যাস চোখের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঘুমের মানও উন্নত হয়।
স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সচেতন ও পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতা দুটোই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আপন দেশ/এসএস




































