Apan Desh | আপন দেশ

কালোটাকা সাদা করার ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ১২ জুন ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৫, ১২ জুন ২০২৬

কালোটাকা সাদা করার ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

আব্দুর রহমান খান। ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বরং ভূমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে করদাতাদের উৎসাহিত করতে একটি সীমিত সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা করে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এ ধরনের সুযোগ সমর্থনযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভালো বাজেটের কালো দিক হলো কালো টাকা। এ সুযোগটি না রেখে বাজেটকে কালো টাকা-মুক্ত রাখা যেত কি না।

আরও পড়ুন<> সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

জবাবে আব্দুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য এবং নিবন্ধনমূল্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। ফলে প্রকৃত অর্থে বৈধ আয় থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা কর-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন। 

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জমি বিক্রেতাদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি পাঁচ কোটি টাকায় জমি বিক্রি করলেও নিবন্ধন সম্পন্ন হয় মাত্র এক কোটি টাকার মূল্যে। ফলে অবশিষ্ট চার কোটি টাকার উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়েন। এ অবস্থায় যদি বিক্রেতা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের প্রমাণ, বায়নানামাসহ প্রয়োজনীয় দলিল উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে নিয়মিত কর এবং ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পান।

আরও পড়ুন<> ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছু নেই: গভর্নর

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এবারের বাজেটে একই ধরনের একটি সুবিধা ক্রেতাদের জন্যও বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ অনেক সময় কোনও ব্যক্তি ২০ কোটি টাকায় ফ্ল্যাট বা জমি কিনলেও নিবন্ধনে মূল্য দেখানো হয় অনেক কম। পরে কর কর্তৃপক্ষ প্রকৃত লেনদেনের তথ্য পেলে অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হয় ক্রেতাকে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের এ ধরনের জটিলতা থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্যই নতুন বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে। তারা যদি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রকৃত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করেন, তাহলে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে তা বৈধভাবে দেখাতে পারবেন। আর যাদের অর্থের উৎস ও কর পরিশোধের তথ্য আগে থেকেই স্বচ্ছ, তাদের অতিরিক্ত কোনো কর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তবে এ বিধান নিয়ে আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। 

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়