Apan Desh | আপন দেশ

ধূমপানে যত ক্ষতি

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

ধূমপানে যত ক্ষতি

ফাইল ছবি

চলছে শীতকাল। তীব্র ঠান্ডায় ঢাকা শহর যেন আরও ভারী হয়ে উঠছে। এত শীত নগরবাসী শেষ কবে দেখেছে, তা অনেকেরই মনে নেই। তবে একটি বিষয় প্রায় সবার মনেই ঘুরপাক খায়—বায়ুদূষণ, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা দূষণের দিকে বারবার শীর্ষে থাকছে।

এর কারণ খুঁজতে খুব বেশি ভাবতে হয় না। চারদিকে অসংখ্য কলকারখানা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। ধোঁয়া, ধুলা আর শব্দে শহরের বাতাস দিন দিন আরও বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

এমন এক শীতের সকালে কল্পনা করুন। আপনি জুবুথুবু হয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছেন। ঠিক সামনে হাঁটছেন এক ভদ্রলোক। হঠাৎ তার মুখ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে লাগল। যা সিগারেটের ধোঁয়া। মুহূর্তেই সে ধোঁয়া এসে আপনার নিঃশ্বাসে মিশে গেল। তখন আপনি কী করবেন?

ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা সবাই জানে। কিন্তু জানার পরও এ থেকে কতজন তা মেনে চলে? বাস্তবতা হলো, খুব কম মানুষই। অথচ সিগারেট ছেড়ে দিলে লাভটা শেষ পর্যন্ত নিজেরই হয়। শরীর আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ থাকে।

ধূমপানের প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়ে ত্বকে। অল্প বয়সেই মুখে বলিরেখা দেখা দেয়। দূর থেকে দেখলে বয়স বেশি মনে হয়। অথচ বাস্তবে বয়স ততটা নয়। এর কারণ হলো, সিগারেট ত্বকের বাইরের দিকের ধমনীগুলোতে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায় না। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ত্বকের কোলাজেন ও এলাস্টিন নষ্ট করে দেয়। এর ফলেই বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ত্বকের পাশাপাশি দাঁতেরও ক্ষতি করে ধূমপান। সিগারেটের নিকোটিন দাঁতের স্বাভাবিক সাদা রঙ নষ্ট করে দেয়। দাঁত হয়ে ওঠে হলদেটে। সিগারেট বন্ধ করলে কিছুদিনের মধ্যেই দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা অনেকটা ফিরে আসে। যারা হঠাৎ ছাড়তে পারেন না, তারা অনেক সময় বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেটের কথা ভাবেন, যদিও সেটিও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন<<>>১৩ বছর বয়সের আগে শিশুকে ফোন দেয়া বিপজ্জনক

চুলের ক্ষেত্রেও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধূমপান করলে চুল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যায়। সিগারেট চুলের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও চুল পড়া, চুল পাতলা হওয়া ও টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

অধিক ধূমপানের ফলে ত্বকের আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। ব্ল্যাকহেডসের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ত্বক হারায় তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।

ধূমপান শরীরের ভেতরের ক্ষত সারাতেও বাধা সৃষ্টি করে। ক্ষত দ্রুত সারাতে রক্তের হিমোগ্লোবিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে শরীরের ক্ষত শুকাতে ও সেরে উঠতে বেশি সময় লাগে।

শীতের শহরে যখন বাতাসই দূষণে ভরা, তখন ধূমপান সে ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিজের জন্য। আশপাশের মানুষের জন্যও। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে, সুন্দর থাকতে চাইলে এবং নিরাপদ শ্বাস নিতে চাইলে—ধূমপান ছেড়ে দেয়ার বিকল্প নেই।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়