ছবি : আপন দেশ
আধুনিক জীবনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত জ্বালানি তেল। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে সেচযন্ত্র, কারখানার উৎপাদন লাইন থেকে শহরের গণপরিবহন—সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল ও আটা-ময়দার দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে পাঁচ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে কাঁচা বাজারেও। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শশা, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যেটা খুচরা বাজারে বাড়ছে আরও বেশি। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৭০ টাকার ওপরে। এর মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং কচুমুখী ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। যার ফলে খুচরা বাজারে এসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত, যা এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ ও মাংসের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। কোন কোন বাজারে তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। গত দুই সপ্তাহে বাজারে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গাড়িভাড়া বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>৮০’র নিচে সবজি নেই, কিছুটা কমেছে মুরগির দাম
বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। বাজারে প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি সোনালি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছিল। পরে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়।
মাছের বাজারও চড়া। প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পাঙ্গাশ মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাঁসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
মুদি দোকানে প্রতি কেজি খোলা আটা (সাদা) ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা তিন দিন আগে যথাক্রমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও। প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে শুক্রবার তা ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা দোকানে এখন প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ৫ টাকা কম ছিল। গত এক সপ্তাহে বাজারে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকায়।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































