ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন স্পিকার।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? বিরোধী দলের নেতাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় মাননীয় বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন আমাকে ফজা পাগলা বলে গালি দেয়। তারা নাকি সভ্য! উনারা আমার দাড়ি-চোখ পাকা নিয়ে কথা বলেন। অথচ আমি উনার চেয়ে ১০ বছরের বড়। আমার বয়স ৭৮ বছর।
এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে থামিয়ে প্রশ্ন করেন, আপনাকে কি কেউ এ ধরনের উক্তি করেছে? এরকম তো সংসদে কেউ বলেনি। জবাবে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছে বলে জোর দিলে স্পিকার পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন?
আরও পড়ুন<<>>দেশে জঙ্গি আছে? উপদেষ্টার ‘হ্যাঁ’ মন্ত্রীর ‘না’
স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পুনরায় বক্তব্য শুরু করে ফজলুর রহমান। এসময় তিনি জামায়াত ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের লোক, আবার উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ‘ডাবল অপরাধ’। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না।
তার এ মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বারবার বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। সারা জাতি লাইভ টেলিকাস্ট দেখছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। শিশুরাও লজ্জা পাবে এ ধরনের আচরণে। যদি সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, তবে এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে সংসদ সদস্যদের রুলস অফ প্রসিডিউর পড়ার পরামর্শ দেন।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের জন্য আনা শোক প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারীদের ব্যাপারে এ হাউজে শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এর প্রতিবাদ করতাম। এতে ইতিহাসের কাছে ভুল বার্তা যাবে।
পাশাপাশি ৫ আগস্ট পরবর্তী পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় ইনডেমনিটি দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, থানা লুট ও পুলিশ হত্যা কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। এগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি একটি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। ফজলুর রহমান বলেন, আমার নেতা সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ এক না। মোহাম্মদী বেগই সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।























