Apan Desh | আপন দেশ

দিনভর উত্তেজনায় শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের ভোট গ্রহণ

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দিনভর উত্তেজনায় শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের ভোট গ্রহণ

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যার কারণে ফল প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। সাত জেলার প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন। দিনভর টানটান পরিস্থিতি থাকলেও বড় ধরনের রক্তপাত ছাড়াই ভোট শেষ হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

ভোটের দিনে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মৃদু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও ধীরগতিতে ভোট হয়েছে। কোথাও দেরিতে ভোট শুরু হয়েছে। আবার কোথাও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজ্যে আরও কয়েক দিন থাকবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় ও শেষ দফা ভোট অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হয়। দুই দফায় মোট ২৯৪টি আসনের ভোট শেষ হয়েছে। সব ভোট এখন ইভিএমে সংরক্ষিত।

দ্বিতীয় দফায় ভোট হয় ১৪২টি আসনে। প্রথম দফায় হয়েছিল ১৫২টি আসনে। এদিন ভোট হয় কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে। এসব এলাকা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রথম দফায় ভোটের হার ছিল ৯২ শতাংশের বেশি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোট পড়েছে ৯১ শতাংশের বেশি।

ভোট চলাকালে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথে চাপ সৃষ্টি, ইভিএম বিভ্রাট এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার অভিযোগ উঠে। কোথাও তৃণমূল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কোথাও বিজেপির বুথে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। নদিয়া ও হুগলির কিছু এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।

কলকাতার একটি কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছালে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভোটের দিন সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের একাংশ নিরপেক্ষ নয়। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চাপে রাখা হচ্ছে। সিআরপিএফ ও কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৃণমূলই ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।

ভোটের হার নিয়েও চলছে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। তৃণমূলের দাবি, বেশি ভোট মানে মানুষের আস্থা। বিজেপির দাবি, বেশি ভোট মানে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ।

আরও পড়ুন <<>> যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে দেড় বিলিয়ন ডলার দেবে ওপেক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশি ভোটের সরল ব্যাখ্যা নেই। কখনও তা শাসকের পক্ষে যায়। কখনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাই দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে হিসাব করছে।

ভোট শেষে সামনে এসেছে এক্সিট পোল। তবে সেখানেও স্পষ্ট কোনো একপাক্ষিক চিত্র নেই। ছয়টি জরিপের মধ্যে চারটিতে বিজেপি এগিয়ে। দুইটিতে তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

ম্যাট্রাইজের জরিপে বিজেপি ১৪৬ থেকে ১৬১ আসন পেতে পারে। তৃণমূল পেতে পারে ১২০ থেকে ১৪০ আসন। পি-মার্কের জরিপে বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫। তৃণমূল ১১৮ থেকে ১৩৮। পোল ডায়েরি বিজেপিকে ১৪২ থেকে ১৭১ এবং তৃণমূলকে ৯৯ থেকে ১২৭ আসন দিয়েছে। প্রজা পোল বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮ আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে।

অন্যদিকে পিপলস পালস তৃণমূলকে ১৭৭ থেকে ১৮৭ আসনে এগিয়ে রেখেছে। বিজেপিকে দেখিয়েছে ৯৫ থেকে ১১০ আসনের মধ্যে। জনমত পোল তৃণমূলকে ১৯৫ থেকে ২০৫ আসনে এগিয়ে রেখেছে। সেখানে বিজেপির সম্ভাব্য আসন ৮০ থেকে ৯০।

অর্থাৎ এক্সিট পোলের ফল মিশ্র। কোথাও বিজেপি এগিয়ে। কোথাও তৃণমূলের সম্ভাবনা বেশি।

এ অবস্থায় ৪ মে’র গণনা ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে। তৃণমূল বলছে, এক্সিট পোল চূড়ান্ত নয়। আসল ফল জানা যাবে গণনার দিন। বিজেপির দাবি, পরিবর্তনের পথ খুলে গেছে।

বাম ও কংগ্রেস জোটও নিজেদের হিসাব কষছে। এখন সবার চোখ ফল ঘোষণার দিকে। ৪ মে জানা যাবে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় কে আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার ফিরবেন, নাকি বিজেপি নতুন ইতিহাস গড়বে—সে উত্তর মিলবে আর কয়েক দিনের মধ্যেই।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়