Apan Desh | আপন দেশ

ইরানের পক্ষে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:১০, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের পক্ষে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। লক্ষ্য—মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের দাবি, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটনের কোনো পারমাণবিক শক্তিধর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সম্পদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়মিতভাবে ইরানের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা এ সহায়তাকে ‘যথেষ্ট ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি রুশ দূতাবাস। অন্যদিকে মস্কো এ সংঘাতকে ‘বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানিয়েছে।

সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনেই ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার মুখে পড়ে। পেন্টাগন দাবি করেছে, এসব হামলায় ইরানের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারপরও পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। রোববার কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনেও নিখুঁত হামলার ঘটনা ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হামলার ধরনে এখন স্পষ্ট কৌশলগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ দারা মাসিকোট বলেন, ইরান এখন নির্দিষ্টভাবে মার্কিন রাডার ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করছে। ইরানের নিজস্ব উন্নত সামরিক উপগ্রহ নেই। ফলে রাশিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি ও উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতার কারণে রাশিয়া এখন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে অনেক বেশি দক্ষ।

আরও পড়ুন <<>> নেপালে সরকার গঠনের পথে গণ-অভ্যুত্থানকারীরা

একই ধরনের পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের-এর গবেষক নিকোল গ্রাজুয়েস্কি। তার মতে, গত বছরের তুলনায় এবারের ইরানি হামলায় স্পষ্ট ‘কৌশলগত উৎকর্ষ’ দেখা যাচ্ছে। এতে অনেক সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চাপে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল গোয়েন্দা সহায়তা ও অস্ত্র দিয়েছে, তার জবাব দিতেই রাশিয়া এখন ইরানকে সহায়তা করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে সস্তা ড্রোন সরবরাহ করেছিল, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে চাপে ফেলেছিল।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রুশরা খুব ভালো করেই জানে আমরা ইউক্রেনকে কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। এখন তার প্রতিশোধ নিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট বলেই মনে হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সরাসরি এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না। দারা মাসিকোট বলেন, ক্রেমলিনের প্রধান অগ্রাধিকার এখনও ইউক্রেন যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে তারা নিজেদের যুদ্ধ হিসেবে দেখছে না।

তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে রাশিয়ার কৌশলগত লাভ হতে পারে। তেলের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন চাপে রয়েছে। তার ভাষায়, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা কমছে, নৌবাহিনী ধ্বংসের মুখে এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় কিয়েভের সহায়তা চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়ে ইউক্রেন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়