ছবি: সংগৃহীত
ইরানে বিক্ষুব্ধ মানুষের মিছিল ক্রমেই বড় হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশটির শতাধিক শহর এবং ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য রয়েছেন। খবর আনাদোলু।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ বিক্ষোভ চলছে। প্রথম দিকে বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক সংকট। গত বছর ইরানি রিয়ালের মূল্য ডলারের বিপরীতে অর্ধেকে নেমে আসে এবং ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে সরাসরি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্লোগান যুক্ত হয়।
ইরানি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ শুক্রবার জানায়, ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতারা যৌথ বিবৃতি দেন। তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান ডুজারিক বলেন, প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে, আর সরকারগুলোর দায়িত্ব সে অধিকার রক্ষা করা এবং তা সম্মান নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বাস, গাড়ি ও মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলছে, পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশন ও ব্যাংকে আগুন দেয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়। রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে তেহরানে শত শত মানুষকে মিছিল করতে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে এক নারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, খামেনেয়ির মৃত্যু হোক। অন্য স্লোগানগুলোতে ১৯৭৯ সালে উৎখাত হওয়া রাজতন্ত্রের পক্ষে সমর্থনের কথাও শোনা যায়।
আরও পড়ুন<<>>ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, ৮ বিপ্লবী গার্ডসহ নিহত ৬২
ইরানের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গা জানায়, শুক্রবারের জুমার নামাজের পর বেলুচ অধ্যুষিত জাহেদানে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ওপর গুলি চালানো হয়, এতে কয়েকজন আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতে শোনা যায়, এটাই রক্তের বছর, আলী খামেনেয়ি ক্ষমতাচ্যুত হবে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কর্তৃপক্ষকে “দয়ালু ও দায়িত্বশীল আচরণ” করার আহবান জানান। একই সঙ্গে সরকার মূল্যস্ফীতিজনিত দারিদ্র্য মোকাবিলায় কিছু সীমিত আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দেয়।
তবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া এবং সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় শুক্রবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ভাঙচুরকারীদের সামনে কখনোই পিছু হটবে না।
তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন। এছাড়া তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট বলেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।
বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ায় দেশটি থেকে তথ্য প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ইরানে ফোন করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দুবাই ও ইরানের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে অন্তত ১৭টি ফ্লাইট।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে ইরান কার্যত অফলাইনে রয়েছে। সংস্থাটির মতে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরান সরকারকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ জায়গাটি এ মুহূর্তে খুবই বিপজ্জনক।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































