Apan Desh | আপন দেশ

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩২, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

ফাইল ছবি

২০২৬ সালে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে। নইলে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসন বা ইমপিচ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারে আয়োজিত প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

৮৪ মিনিটের বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন , আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপনাদের জিততে হবে। আর না জিততে পারলে ওরা (ডেমোক্র্যাট) আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ খুঁজে পাবে। 

আরও পড়ুন<<>>গ্রিনল্যান্ড দখলের তথ্য জানাল হোয়াইট হাউস

রয়টার্স অনলাইন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে না পারলে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভাটা পড়বে। এমনকি কংগ্রেসে তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তাই যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। জীবনযাপনের খরচ নিয়ে এরইমধ্যে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্প চাইছেন, নিজেদের বিরোধ ভুলে রিপাবলিকানরা যেন হাত মেলান। 

রিপাবলিকানদের সতর্ক করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৪৩৫ এবং সিনেটে ৩৩টি আসন অবশ্যই হাতে রাখতে হবে। 

বক্তৃতায় ট্রাম্প আগামী নির্বাচনে একটি ঐতিহাসিক বিজয় পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও নিজের দলের অবাধ্য সদস্যদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন। তবে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সম্মলনে তিনি বলেন, আমরা মধ্যবর্তী জয় ছিনিয়ে আনতে যাচ্ছি, যা দিয়ে ইতিহাস গড়ব, রেকর্ড ভাঙব। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল হাউজে আসন হারিয়েছে। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ট্রাম্পের ওপর নজর মার্কিন ভোটারদের। এ ঘটনার পর দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা, যেমন মূল্যস্ফীতির দিকে নজর দেয়ার জন্য চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর। কিন্তু মঙ্গলবারের সম্মেলনে এসব ব্যাপারে ট্রাম্প কিছুই বলেননি। বরং তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা ওসব সমস্যা এখন তার ঘাড়ে এসে পড়েছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মিডটার্ম অর্থাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতবে। কিন্তু কিছু রিপাবলিকান সদস্য ঠিকঠাক পথে চলছেন না। 

২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন খুইয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা। তাই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যখাতে মনোযোগ দিতে রিপাবলিকান সদস্যদের প্রতি আহবান জানান ট্রাম্প। 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন পর পর দুইবার অভিশংসনের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য এবারও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, যদিও তা অস্বীকার করে আসছে হোয়াইট হাউজে। 

বর্তমানে পাঁচ ভোট বেশি নিয়ে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে রিপাবলিকানরা। এতো কম ব্যবধান নিয়ে টিকে থাকতে পারছে না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও স্পিকার মাইক জনসন। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন খাতে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এতদিন রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে খরচ এবং অন্যান্য বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা অনেকটাই ট্রাম্পের হাতে ছেড়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে কলোরাডো এবং ফ্লোরিডার অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে ভেটো দেন ট্রাম্প। এ সপ্তাহে তার সে ভেটো খারিজ করতে একটি ভোটাভুটি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক রিপাবলিকান এ ভোটে ট্রাম্পের পক্ষ নেবে না।


আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়