ছবি: আপন দেশ
আজ ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব কিডনি দিবস পালন করা হয়। প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এ দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণিরে’।
কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও কিডনি রোগকে এখন বড় একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ এসব কারণে দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
কিডনি দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। ক্যাম্পে ডাক্তাররা বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন।
বিশ্বের প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত।
বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কোন না কোনোভাবে এ রোগে আক্রান্ত। দারিদ্র্য, অসচেতনতা, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যথানাশক ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহার, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ ও পাথুরে রোগী কিডনি রোগের কারণ।
এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে।
বর্তমানে এ রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে; যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি
যেকোনো বয়সেই হতে পারে কিডনির রোগ। নিজেকে হয়তো দিব্যি সুস্থ ভাবছেন আপনি, কিন্তু আপনার অজান্তেই ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে কিডনি, যার পরিণতিতে প্রয়োজন হতে পারে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন। এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে কিডনির যেকোনো রোগ দ্রুত শনাক্ত করা খুবই জরুরি। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমার কিডনি কি সুস্থ আছে?
কেউ কেউ মনে করেন, রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করালেই বুঝি কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝা যায়। তবে বাস্তবতা হলো, কিডনির সমস্যা শনাক্তকরণের প্রাথমিক পরীক্ষা এটি নয়। বরং প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন (আমিষ) বেরিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটা নির্ণয় করা সবচেয়ে জরুরি। সুস্থ মানুষের প্রতিবছরই এ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
আরও দেখে নেওয়া প্রয়োজন যে রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ কেমন আছে। কোনো উপসর্গ ছাড়াই একজন মানুষ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারেন। এসব রোগ থাকলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগের প্রধান কারণই হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেলেও কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে নিয়মিত এসবের পরীক্ষা করানোর চর্চা নেই। নারীদের ক্ষেত্রে তো বিষয়টি আরও অবহেলিত।
এসব রোগের কোনোটিতে ভুগছেন কি না, জানাটা কেন জরুরি? কারণ, জানার পর সে অনুযায়ী জীবনধারায় আনতে হয় ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন। প্রয়োজনে নিতে হয় চিকিৎসা। তাতে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি কমবে অন্যান্য রোগের ঝুঁকি।
উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কি না, তা–ও জানা প্রয়োজন। নিকটাত্মীয়দের কারও দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপে ভোগার ইতিহাস থাকলে নিজের কিডনির রোগের ঝুঁকির বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিন। গর্ভধারণের আগেও নারীর রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করানো উচিত।
কিডনি রোগের কোনো উপসর্গ না থাকলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ৪০ বছর বয়স পেরোলে একজন সুস্থ ব্যক্তির প্রতিবছরই একবার কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত। রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করালে কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
তবে যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে, তাদের অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত। এসব ক্ষেত্রে কেবল রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করিয়েই কিডনির বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই সব সময়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষাও করতে দেবেন।
আপন দেশ/জেডআই




































