Apan Desh | আপন দেশ

আজ বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৩, ৮ জুন ২০২৬

আজ বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস

ছবি সংগৃহীত

আজ ০৮ জুন (সোমবার), বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। 

২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জার্মান ব্রেইন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন নামের দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে ব্রেইন টিউমার বলা হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ঝুঁকি ও মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি।

আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক বা ব্রেইন। তাই ব্রেইনের কোনো সমস্যা হলেই সবাই উদ্বিগ্ন হন। ব্রেইন টিউমারের প্রাথমিক উপসর্গ মাথাব্যথা। সঙ্গে বমি, ভুলে যাওয়া ও আচমকা ব্ল্যাক আউটের মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। 

এ ছাড়া ব্রেইন টিউমারের আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। চোখে ঝাপসা দেখা। হাতের বা শরীরের একদিক অবশ হয়ে যাওয়া। ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা। চলতে গিয়ে পড়ে যাওয়া। ব্রেইন টিউমার মস্তিষ্কেও হতে পারে আবার শরীরের অন্য অংশে তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে ছড়াতে পারে। 

সাধারণত কিছু অস্বাভাবিক কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যদি মস্তিষ্কে চাকার সৃষ্টি করে, তাকে ব্রেইন টিউমার বলে। দুই ধরনের টিউমার আছে। একটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং মস্তিষ্কের অন্যত্র ছড়ায় না। এগুলোকে বেনাইন বা নির্দোষ টিউমার বলে। তবে বড় আকৃতির টিউমারের চাপে মস্তিষ্কের সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। 

আরেক ধরনের টিউমার, যা ক্যান্সার হিসেবে গণ্য হয়, দ্রুতই মস্তিষ্কের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ টিউমার নিরাময় হয়।

আরও পড়ুন<<>>হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসানির্ভর করে টিউমারের আকার, ধরন, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর। সাধারণত অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, কখনো ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়।

মস্তিষ্ক বা ব্রেইন শরীরের বিশেষ একটা জায়গা। এখানে অস্ত্রোপচার বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশে এক সময় মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার হতো না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও এগিয়েছে। এখন দেশেই হচ্ছে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার।

মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা যায়, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হন। কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনমূলক কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না, যার জন্যই এ দিবসের উদ্ভব।

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট থাকে না (silent period)। তবে টিউমারের অবস্থান ও বৃদ্ধির গতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং খাবার গিলতে অসুবিধা ইত্যাদি।

চিকিৎসা পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষণগুলো অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সার্জারি বা রেডিও সার্জারির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম ব্রেইন টিউমারের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তারা আরও বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীর চর্চা করে ব্রেইন টিউমার ঠেকানো যায়। তাছাড়া যে কোনো সমস্যায় অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়