Apan Desh | আপন দেশ

সবজির বাজার চড়া, কমেছে ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১২:১৬, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:৫২, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

সবজির বাজার চড়া, কমেছে ডিমের দাম

ছবি : আপন দেশ

দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে বয়ে চলেছে শৈত প্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। যার প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। তবে ডজনে ১০ টাকা করে কমেছে ডিমের দাম। ডিমের দাম কমলেও মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। স্বাভাবিক আছে চাল ও তেলের বাজারও।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

এদিন রাজধানীর কমলাপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আলুর দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। দুই সপ্তাহ আগে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া এ আলু এখন বাজার ও মানভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলু নয়, ফুলকপির দামও এখন চড়া। ছোট আকারের একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ২৫-৩০ টাকায় নেমে এসেছিল। সপ্তাহখানেক আগে তীব্র শীতের দোহাই দিয়ে ফুলকপির দাম বাড়ানো হয়েছিল, সে বাড়তি দাম এখনো কমেনি। অথচ এখন শীতের তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে এবং সারা দিন রোদের দেখা মিলছে।

বিক্রেতাদেরদের দাবি, শীত কমে এলেও সরবরাহ এখনো তেমন বাড়েনি। এ কারণেই সবজির দাম কমছে না। সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনো চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে ফুলকপির সরবরাহ খুবই কম।

বেড়েছে বেগুনের দামও। মান ও জাতভেদে কিছু বেগুন প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের সবুজ শিম প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ৩০-৩৫ টাকায় নেমেছিল। তবে ভালো মানের শিম এখন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দেশি লাউ, যা আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন প্রতি পিস ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাধাকপির দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয়। বড় আকারের প্রতি পিস বাধাকপি বাজারভেদে ৩৫-৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ভরা মৌসুমেও টমেটোর দাম চড়া। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি টমেটো ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গাজরের দাম কিছুটা কম; বাজারভেদে প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দামও কমেছে। প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখন ৫০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ভ্যানগাড়ির বিক্রেতারা এ দামে বিক্রি করলেও মুদি দোকানগুলোয় মানভেদে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

আরও পড়ুন<<>>সবজি নাগালেই, চাল-ডালের দাম বাড়তি

বাজারে শীতের সবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে। ফলে এক ডজন ডিমের দাম ১০ টাকা কমে এখন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। তবে সোনালি মুরগির দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়- এখনকার এ দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

তবে মাছের বাজার আগের অবস্থায় রয়েছে। কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। 

চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নতুন আমন চাল আসতে শুরু করেছে। ফলে নতুন চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোনো চাল এখনো বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। নতুন মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। একই ধরনের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। এ ছাড়া সয়াবিন তেল আগের মতোই ১৯৫ টাকায় লিটার বিক্রি হচ্ছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়