ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ছুটির আমেজ। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেকেই গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় খেয়াল না করলে পরে নানা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রথমেই গ্যাস ও পানির লাইন পরীক্ষা করে নেয়া প্রয়োজন। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের মূল লাইন অবশ্যই বন্ধ করে যেতে হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে। আবার ফিরে এসে চুলা জ্বালানোর আগে কিছু সময় দরজা-জানালা খুলে রাখা ভালো, যাতে ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসার পানির কলগুলো ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে। ভ্রমণে যাওয়ার আগে ফ্রিজে থাকা পচনশীল খাবারগুলো যতটা সম্ভব শেষ করে ফেলা ভালো। যদি ফ্রিজে খাবার না থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখাও যেতে পারে। বের হওয়ার আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নেয়া উচিত, যাতে ভেতরে কোনো খাবার নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ তৈরি না করে।
অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে বাসার লাইট, ফ্যান বা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ অন অবস্থায় থেকে যায়। তাই বের হওয়ার আগে সব সুইচ বন্ধ আছে কি না তা ভালোভাবে দেখে নেয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার, মাইক্রোওয়েভ, ওয়াশিং মেশিনসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখলে নিরাপত্তা আরও বাড়ে।
ঈদের সময় অনেক এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়তে পারে। তাই বাসার দরজায় ভালো মানের তালা লাগানো জরুরি। সম্ভব হলে ভেতরের কক্ষগুলোর দরজাতেও আলাদা তালা লাগিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ থাকে।
বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে তাকে একা রেখে যাওয়া ঠিক নয়। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে পরিচিত কারও কাছে রেখে যেতে পারেন। প্রয়োজনে পোষা প্রাণীর যত্ন নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কেয়ার সেন্টারের সহায়তাও নেয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> আজ বিশ্ব ঘুম দিবস
বের হওয়ার আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করে রাখা ভালো। থালা-বাসন ধুয়ে গুছিয়ে রাখুন এবং ফলমূল বা সবজি এলোমেলোভাবে ফেলে না রেখে যথাস্থানে সংরক্ষণ করুন। সিঙ্ক, কেবিনেট ও শেলফ পরিষ্কার করলে দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে দুর্গন্ধের সমস্যায় পড়তে হবে না।
বাসা ছাড়ার আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা কয়েকবার দেখে নেয়া উচিত। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে।
ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে যেন বাড়তি ঝামেলা না হয়, সে জন্য আগে থেকেই কিছু পরিষ্কার কাপড় ধুয়ে, শুকিয়ে ও আয়রন করে রেখে যাওয়া ভালো। এতে দীর্ঘ ভ্রমণের পর বাড়ি ফিরে অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকবে না।
ছুটিতে যাওয়ার আগে ঘর গুছিয়ে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে ফিরে এসে অগোছালো পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় না এবং মানসিক স্বস্তিও পাওয়া যায়।
এছাড়া আলমারি, টেবিল বা দেরাজে থাকা নগদ টাকা, অলঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ভালোভাবে লক করে রাখতে হবে। এসব জিনিস খোলা জায়গায় ফেলে রাখা ঠিক নয়।
যাত্রার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি করে একটি কপি নিজের কাছে রাখা ভালো। এতে পথে হারিয়ে গেলে সমস্যার ঝুঁকি কমে।
সবশেষে, বাড়ি ছাড়ার আগে রান্নাঘরসহ সব কক্ষের ময়লার ঝুড়ি খালি করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিতে হবে। না হলে দীর্ঘদিন বদ্ধ অবস্থায় থাকলে দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে এসব ছোট ছোট বিষয় খেয়াল রাখলে শহরের বাসাটি নিরাপদ থাকবে। একই সঙ্গে ছুটি শেষে ফিরে এসে একটি পরিষ্কার ও স্বস্তিকর পরিবেশ পাওয়া যাবে।
আপন দেশ/এসএস




































