Apan Desh | আপন দেশ

২৬ বছরে মিলল: জালালের মরদেহ কেন ট্যাংকে

বিশেষ প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:০৮, ৫ মে ২০২৬

আপডেট: ২০:৩৫, ৫ মে ২০২৬

২৬ বছরে মিলল: জালালের মরদেহ কেন ট্যাংকে

জালাল আহমেদ শফি। ছবি: ফাইল

১৯৯৯ সালের মার্চের ঘটনা। রাজধানীর মিন্টু রোডের লাল দোতালা বিল্ডিংয়ে প্রধান ডিবি কার্যালয়। দোতালায় দুপাশে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের দুই জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়। পূর্ব পাশে তৎকালীন হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং পশ্চিমপাশে বসেন মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। তবে মিডিয়া বান্ধব হাসান মাহমুদের চেম্বারেই জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের সাংবাদিকরা নিউজের সন্ধানে সেখানে যেতেন।

সেদিনও ব্যতিক্রম ছিল না। উপস্থিত ছিলেন পারভেজ খান, ফখরুল আলম কাঞ্চন, কামরুল ইসলাম, শংকর কুমার দে, আমিনুর রহমান তাজ, গাফফার মাহমুদসহ আরও সিনিয়র অনেকে।

দুপুরে বিস্কুটের সঙ্গে চা দেয়া হয়। পানি পান করার সময় তাজ ভাই বলেন, পানিতে দুর্গন্ধ পাচ্ছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসান মাহমুদ খন্দকারও পানিতে দুর্গন্ধ পান।

এরপরই বিকেলে এক সময় ছাদে পানির ট্যাংকিতে তল্লাশীর সময় সোর্স জালালের পচা মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় ডিবি কার্যালয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। পরদিন সকাল থেকেই মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ডোম শহিদুলসহ কয়েকজনকে নেয়া হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর মর্গে নেয়া হয়।

মরদেহের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ায় মরদেহ সনাক্ত করা যায়। এ ঘটনায় ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা বিভাগের ইমেজ চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়। এ হত্যা মামলাটি তৎকালীন সিআইডির কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ঘটনাটি ছিল ওই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

আরও পড়ুন <<>> এসএসসির প্রশ্ন নিজেরাই তৈরি করে বিক্রি করতেন রিসাদ-সাইফ : র‌্যাব

২৭ বছর পর এ জালাল হত্যা মামলায় দুই পুলিশসহ তিন জনের যাবজ্জীবন রায় দেন আদালতের বিচারক। তবে এ ঘটনার মূল নায়ক ডিবির পরিদর্শক জিয়াউল আহসানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে শোনা যাচ্ছে না।

জিয়াই জালালকে বাসা থেকে ডেকে আনেন ডিবি কার্যালয়ে। এ ঘটনার পরই মামলায় এসি হুমায়ুন কবিরের টিমের সকল সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। শুধু তাই নয়, ডিবির ক্যান্টিনে বসে জালালকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই শলাপরামর্শের সময় ক্যান্টির মালিক আনোয়ার হোসেনও ছিলেন। সিআইডি জড়িতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগপত্র দাখিল করলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ছিল হিমাগারে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে সংঘটিত জালাল আহমেদ শফি হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২৭ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হাবিলদার মো. বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুর রউফ এবং ডিবির ক্যান্টিন পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বিষয়টি জানা যায় রোববার (০৩ মে)।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সায়েদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত জালাল আহমেদ শফি পেশায় মাইক্রোবাস চালক ছিলেন এবং গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন।

১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ গুম করা হলেও পরে তা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে রমনা থানার তৎকালীন এক উপ-পরিদর্শক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর নিহতের ছেলে আব্বাস উদ্দিন ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল পৃথকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ডিবির কিছু সদস্য জালালকে ব্যবহার করে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং সে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতেন। তবে অভিযুক্তরা উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও মাদক নিজেদের দখলে রাখতেন এবং জালালকে তার প্রাপ্য অংশ দিতেন না। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৯ সালের মার্চে তাকে বাসা থেকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ডিবি কার্যালয়ের ছাদে পানির ট্যাংকিতে গুম করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়