ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটে হারার পর থেকেই দলের মধ্যে চলছে অস্থিরতা। নেতাকর্মীরা যে যার মতো পল্টি মারছে। এবার দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারাতে বসেছে দলটি।
সোমবার (২২ জুন) দল ভেঙে বেরিয়ে আসা তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেতারা দলের চেয়ারপারসনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছেন।
দলের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে হাওড়ার মধ্য বিধানসভার বিধায়ক ও রাজ্যের সাবেকমন্ত্রী অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ৪ জন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার বিদ্রোহীরা দলীয় প্রতীক ‘কব্জা’ করবেন কি না, সে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার পর মমতাপন্থি তৃণমূল নেতারা বিদ্রোহীদের ‘বেঈমান’ বলতে ছাড়েননি। আট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেয়া হয়েছে।
কিন্তু তাতে দলের প্রতীক হাতছাড়া হওয়া আটকানো যাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশনকে নতুন কমিটির কথা জানানো হবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত।
আনন্দবাজার লিখেছে, নির্বাচন কমিশনকে নতুন কমিটির কথা জানালে জোড়া ঘাসফুল প্রতীকের ‘দখল’ পাওয়া বিদ্রোহীদের পক্ষে খুব একটা কঠিন হবে না। তাই চুপ করে বসে নেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। ইতোমধ্যে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) মিশে গেছেন তারা। তা সত্ত্বেও ঘাসফুল প্রতীকের জন্য সর্বশক্তিতে ঝাঁপাতে দেখা যাবে তাদের।
আরও পড়ুন <<>> প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার হেনস্তা নিয়ে মুখ খুলল ভারত
অতীতে ত্রিপুরার বিধানসভার নির্বাচনে ‘কলমের নিব’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এনসিপিআই। কিন্তু সে প্রতীক একেবারেই পছন্দ নয় তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের। তাই গত ১৮ জুন নিজেদের নেত্রী শতাব্দী রায়ের কলকাতার বাড়িতে বৈঠক করেন তারা। সেখানেই ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ‘কব্জা’ করতে আদালতে যাওয়ার আলোচনা হয়।
জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে ‘ঘাসফুল’ প্রতীক। এর স্রষ্টা হিসাবে বরাবর নিজেকে তুলে ধরেছেন মমতা। যদিও এ নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি।
আনন্দবাজার বলছে, পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর ঘাসফুল প্রতীকের ছবিটি মমতার আঁকা নয় বলে বিস্ফোরক দাবি করে বসেন সোমনাথ চৌধুরী নামের এক চিত্রশিল্পী। এক সময় কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে মমতাকে বহিষ্কার করে কংগ্রেস। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নাম আগেই নথিভুক্ত করা হয়েছিল। প্রথমে সেটা ছিল, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। পরে পাল্টে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম রাখেন মমতা। বিজেপির সঙ্গে জোট করে ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকে সে বছর লোকসভা নির্বাচন করে তার দল।
তৃণমূলের দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকটির একটি বিশেষ অর্থ আছে। এর মাধ্যমে সমাজের নিচুতলা থেকে শুরু করে আমজনতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফুটিয়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































