ফাইল ছবি, আপন দেশ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মানিকচন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে কার্যালয়ের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, ভাতাভোগী ও উপকারভোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশে অবস্থান করায় বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুমোদন, যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য দাফতরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অনেক সেবাপ্রার্থীকে একাধিকবার কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর ও অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
আরও পড়ুন<<>>বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানিকচন্দ্র দাস তিন মাসের অনুমোদিত ছুটিতে বিদেশে গেলেও সে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবে তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তার ছুটির মেয়াদ পুনরায় অনুমোদিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইমাম হাছিম বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিকচন্দ্র দাস মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন। পরবর্তীতে তিনি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জেনেছি। তবে মন্ত্রণালয় তার ছুটি পুনরায় অনুমোদন করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। চিকিৎসা শেষে তিনি দ্রুত কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলে আশা করছি।
তিন মাসের ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপপরিচালক মো. ইমাম হাছিম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যাতে অফিসের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। সেবাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় জনসেবার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মানিকচন্দ্র দাসের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































