ছবি : আপন দেশ
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং আরও ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিএসই সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে পৃথক দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
ডিএসইর প্রকাশিত তালিকায় বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পিইটি, নিউলাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, প্রাইম টেক্সটাইলস, রহিমা ফুড, আরএসআরএম স্টিল, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাসসহ মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে, নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি বন্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে কার্যত ৩০টি সক্রিয় কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএসই।
ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং ঝিল বাংলা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে মৌলভিত্তি দুর্বল বা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই এই সতর্কতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ‘রেড এলার্ট’ জারি করে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর কিছু শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। এরই মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলস-এর শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
আরও পড়ুন : বিশ্ববাজারে ফের কমলো জ্বালানি তেলের দাম
তবে বিস্ময়করভাবে সতর্কসংকেত জারির পরও এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ৩২টি বন্ধ কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস ও নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































