Apan Desh | আপন দেশ

সড়ক নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রি ব্যবহার, তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রি ব্যবহার, তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি

ছবি: আপন দেশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার আর-০৯ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সড়কে ব্যবহৃত খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী নির্ধারিত কারিগরি মান অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর ল্যাব পরীক্ষা নিয়ে পৌর প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন।

এডিবি, ফ্রেঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এএফডি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে গাইবান্ধা সড়ক থেকে হিলো-আজিজ মুনসির বাড়ি মসজিদ হয়ে নওশা হাউস/হিও-আতাউর হাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫১ টাকা ৬০ পয়সা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজে ব্যবহৃত খোয়া ও অন্যান্য উপকরণের মান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে মুক্তা চেয়ারম্যান সড়কের সংস্কারকাজ নিয়েও। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ল্যাব পরীক্ষা নিয়ে দুই বক্তব্য

গত ৪ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক মো. শেখ হাবিবুর রহমান নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে মেজারমেন্ট বুক, অনুমোদিত মিক্স ডিজাইন, ল্যাব রিপোর্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল রিপোর্ট, ওয়ার্ক অর্ডার, চুক্তিপত্র এবং বিল-ভাউচার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি জানান, নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকট, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

অন্যদিকে সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, নির্মাণসামগ্রীর ল্যাব পরীক্ষা আগেই হয়েছে এবং পরীক্ষায় মান স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।

পুনঃপরীক্ষার দাবি

অভিযোগকারী চলমান সড়ক থেকে ডব্লিউবিএমের খোয়া ও ব্যবহৃত বিটুমিনের নমুনা সংগ্রহ করে নিরপেক্ষ কারিগরি দলের মাধ্যমে অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ নথিবদ্ধ করা হলে পরীক্ষার ফল নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমবে।
বিশেষ করে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণস্তর সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার আগে নমুনা পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত কাজের মান যাচাই তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। তাই চলমান কাজের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অভিযোগের পর হুমকি

অভিযোগ দেয়ার দিন ৪ অক্টোবর বিকেলে দুটি মুঠোফোন নম্বর থেকে অশালীন ভাষায় কথা বলা ও হুমকি দেয়ার দাবি করেছেন সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান। নিরাপত্তার জন্য ৫ অক্টোবর তিনি সাদুল্লাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম ও আতাউর রহমানের মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ০৭ অক্টোবর রফিকুল ইসলাম ফোন করে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি আপনাকে কোনো হুমকি দিইনি। তবে আতাউর রহমান আপনার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

রফিকুল ইসলামের দাবি করেন, আতাউর রহমানের বাড়ির আশপাশে পুলিশ অবস্থান করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তিনি জানেন। এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রফিকুল আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর মূল ঠিকাদার চলে যাওয়ায় তিনি আরও চারজনের সঙ্গে প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার এএসপি (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ওসি এবং সার্কেল অফিসারকে বিষয়টি দেখতে বলেছি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়