Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলা

টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই মামলায় চার জনের যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলাম ফারুক সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান বাপ্পা (৩০) টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার সাবেক এমপি আতাউর রহমান খানের ছোট ছেলে এবং সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হচ্ছেন শহরের কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ফকির(২৫) ও সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া(৩১)। তারা প্রত্যেকেই পলাতক রয়েছেন।
 
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হচ্ছেন সদর উপজেলার কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. সুজন(৩২), দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. রওশন আলীর ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন(৩৪)। তারা দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শহরের চর কাগমারা(উত্তর কাইয়ামারা) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নিলু বাবুর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শফিক(২৫) ও সদর উপজেলার ছিটকিবাড়ি গ্রামের মো. নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন(২৫) পলাতক রয়েছে। 

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সদর উপজেলার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে হাজতী সঞ্জিত ঘোষকে এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। টাঙ্গাইলের বিতর্কিত খান পরিবারের কর্মী-সমর্থক। 

আরও পড়ুন<<>>নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর(সরকারি কৌঁসুলী) মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন মামলার নথি সূত্রে জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে শহরের আকুরটাকুর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে (হাঁটতে) বের হন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক। তিনি আকুরটাকুর বটতলা কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছলে একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি পুলিশ পুনরায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিআইডির অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার দুপুরে ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি আদালত চত্তর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী মো. লাভলু মিয়া, নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে অনিকসহ অন্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবী একেএম শামিমুল আকতার শামিমসহ অন্যরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়