ছবি: আপন দেশ
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দেয়। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। ফলে সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একাধিক স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৫টি স্থানে ধস ও ভাঙনের চিহ্ন দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গেও এ সড়কের যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় সড়কের এ ধস ও ফাটল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>মা-ভাবিকে কুপিয়ে ভাতিজিকে আছাড় মেরে হত্যা
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণকাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলতি বছর শেষ হয়েছে। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি সেতুর নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট ও সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দেয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































