ছবি: এআই জেনারেটেড
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরছেন না। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্নটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক হিসাব, বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতা।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সি. ক্রিস্টিন ফেয়ারের বক্তব্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: শেখ হাসিনাকে ভারতে রাখা বা তাঁকে অন্য কোথাও পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের জন্যও একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনার বিষয়। অধ্যাপক সি ক্রিস্টিন ফেয়ার সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।
তবে এখানে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে:
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় বা অবস্থানের সুযোগ দিচ্ছে কি না।
বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না।
শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না এবং ফিরলে তাঁর আইনি পরিস্থিতি কী হবে।
এই তিনটি বিষয় এক নয়।
শেখ হাসিনা ভারতে থাকাকালে ভারতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ভারত তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত দিতে আগ্রহী নয় বলে তিনি মনে করেন।
ভারত তাঁকে অন্য দেশে পাঠাতে চাইলেও তাঁকে গ্রহণ করার মতো দেশ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সি ফেয়ারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, শেখ হাসিনাকে ভারতে নীরব রাখা বা তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো একজন মার্কিন অধ্যাপকের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; ভারতের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।
তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো: শেখ হাসিনার অবস্থান এখন শুধু বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গেও যুক্ত।
২. ভারত কেন শেখ হাসিনাকে সহজে ফেরত দিতে চাইবে না?
এখানে ভারতের কয়েকটি স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে।
ক. কৌশলগত স্বার্থ
শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের নিজস্ব হিসাব রয়েছে।
খ. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তার প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটিও বিবেচ্য।
বিশেষ করে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের অতীত সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের হিসাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
গ. বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পরিণতি
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে, বিচারিক প্রক্রিয়া ও তাঁর দণ্ড কার্যকরের প্রশ্ন সামনে আসবে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আবার ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলেও সেটি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার: ভারত তাঁকে ফেরত দিতে চায় না—এটি ফেয়ারের মূল্যায়ন। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৪ জুলাই ২০২৬-এ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও বলেছিলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি।
৩. প্রত্যর্পণ চুক্তি কি ভারতকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য করে?
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, যা ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়।
এই চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে এক দেশ অন্য দেশের কাছে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করতে পারে।
কিন্তু এখানে কয়েকটি জটিলতা রয়েছে।
রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচ্য।
হত্যা ও নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধ রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়তে পারে।
ভারতের নিজস্ব Extradition Act, 1962 অনুযায়ীও কিছু আইনি সুরক্ষা ও বিবেচনার বিষয় রয়েছে।
অর্থাৎ, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—এই যুক্তিতেই তাঁকে ফেরত দেওয়া যাবে না, এমন নয়। আবার বাংলাদেশ চেয়েছে বলেই ভারতকে অবিলম্বে তাঁকে ফেরত দিতে হবে, বিষয়টিও এত সরল নয়।
২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত Outlook India-র আইনি বিশ্লেষণেও এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৪. শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা কী?
এই বিশ্লেষণে চারটি বড় বাধা রয়েছে।
প্রথম বাধা: তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক অবস্থান।
১৭ নভেম্বর ২০২৫ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে গ্রেপ্তার ও দণ্ড কার্যকরের প্রশ্ন সামনে আসবে। তাঁর দেশে ফেরার অর্থ সাধারণ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়; এটি একটি গুরুতর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।
দ্বিতীয় বাধা: ভারতের সিদ্ধান্ত।
তিনি নিজে ফিরতে চাইলেও ভারত থেকে বাংলাদেশে যাত্রা করার বাস্তব সুযোগ ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় বাধা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ।
তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চতুর্থ বাধা: তাঁর নিজের রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান বলে বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু দেশে ফিরে বিচার মোকাবিলা করা এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ডিসেম্বর ২০২৬-এ দেশে ফেরার সম্ভাব্য তিনটি পরিস্থিতি
এখানে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি আলাদা করে বিবেচনা করা যায়।
পরিস্থিতি ১
ভারতের সম্মতিতে প্রত্যাবর্তন
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছালে প্রত্যর্পণ বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। তবে এ জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।
পরিস্থিতি ২
নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার চেষ্টা শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। আলজাজিরার ৬ আগস্টের প্রতিবেদনেও তাঁর দেশে ফেরার অঙ্গীকারের কথা এসেছে। কিন্তু তাঁর বক্তব্য বাস্তবে ভারত থেকে বের হওয়ার অনুমতি বা নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা নয়।
পরিস্থিতি ৩
ভারতে অবস্থান অব্যাহত রাখা ভারত যদি প্রত্যর্পণ না করে এবং শেখ হাসিনা নিজেও দেশে ফেরার বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারেন, তাহলে তাঁর ভারতে অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে।
৬. ডিসেম্বরের আগে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে?
এখানে পাঁচটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ :
১) ভারতের অবস্থানের পরিবর্তন: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন কোনো ঘোষণা দেয়?
২) বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা: নতুন সরকার কি ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ায়, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে?
৩) ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্পর্কের উন্নতি বা অবনতি ঘটে কি না।
৪) শেখ হাসিনার নিজস্ব ঘোষণা: ডিসেম্বরের আগে তিনি কি দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বা পদক্ষেপ ঘোষণা করেন?
৫) আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: তাঁর বিচার, মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্র কী অবস্থান নেয়?
২০২৬ সালের ১ অক্টোবর প্রকাশিত সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ISAS-এর বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে, যদিও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অব্যাহত।
৬) আমার সামগ্রিক বিশ্লেষণ-
এখানে একটি মৌলিক বিষয় বুঝতে হবে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তিনি বাস্তবে ফিরতে পারবেন কি না, সেটি নির্ভর করছে ভারত, বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণাকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার রাজনৈতিক বার্তা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি ও প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা। সত্যিই দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার অভিপ্রায়।
এই তিনটি উদ্দেশ্য একসঙ্গেও থাকতে পারে।
তবে তাঁর ঘোষণার পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রত্যাবর্তন-পরিকল্পনা রয়েছে—এমন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্য থেকেও দলের ভেতরে এ বিষয়ে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উঠে এসেছে।
শেষ কথা: ডিসেম্বর মাসে কী হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে একটি পার্থক্য করতে হবে—ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং ডিসেম্বরে বাস্তবে দেশে প্রবেশ করা এক বিষয় নয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পক্ষগুলোর একটি হলো ভারত। বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত চাইলেও ভারত যদি প্রত্যর্পণে সম্মতি না দেয়, তাহলে তাঁর ফেরার পথ জটিল হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, তিনি যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁকে বাংলাদেশের বিচারিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তাই ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আবার একেবারে অসম্ভব বলারও ভিত্তি নেই।
আমার মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:
ভারত কি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করেও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে পারবে?
এখানেই পুরো সংকটের কূটনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।
ভারত যদি মনে করে শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, তাহলে তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন তারা অনুভব নাও করতে পারে। আর যদি তাঁকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যয় ভারতের কাছে বেশি হয়ে ওঠে, তাহলে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রশ্ন আসতে পারে।
এই কারণেই ডিসেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের চেয়ে ভারতের সরকারি সিদ্ধান্ত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ বেশি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
লেখক : বার্তা প্রধান, গ্রীন টিভি
ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































