Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকায় বসছে ১০ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২২:০৬, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকায় বসছে ১০ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো

ছবি: আপন দেশ

রাজধানীতে আগামী ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর হতে যাচ্ছে দশম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো (আইএফএসএসই) ২০২৬। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএসএসএবি)। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। 

শনিবার (০৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় ইএসএসএবি। 

আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে ২০টির বেশি দেশের ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এতে ২০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে ফায়ার, সেফটি ও সিকিউরিটি খাতের ১৩টির বেশি পণ্য ও সেবা বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমাধান তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশি-বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে পাঁচটি বিশেষায়িত সেমিনার হবে। এতে ২৫ জনের বেশি বক্তা আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মান ও উত্তম চর্চা, শিল্প ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি। তিনি দেশের অগ্নিনিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইএসএসএবির মহাসচিব নাঈম উদ্দিন মাহমুদ। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইএসএসএবির পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান হেলাল। 

আরও পড়ুন<<>>প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ কর্মকর্তা

ইএসএসএবির প্রেসিডেন্ট স্কোয়াড্রন লিডার এম দিদারুল ইসলাম (অব.) বলেন, আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর নয়টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার দশম আসর হচ্ছে। গত আয়োজনগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার দর্শনার্থী অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিন হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন সেমিনার ও জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি দেশের প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময়ে এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া ও পাদুকা, প্লাস্টিক এবং খেলনাশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। এসব খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা, শিল্পনিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক, বিনিয়োগ ও সম্পদের সুরক্ষা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের এক্সপোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ইএসএসএবি-এর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনী  হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীদের অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয়, প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতি, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কৌশল এবং অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেয়া হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের জাতীয় জরুরি হটলাইন ১০২ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। যেন অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত ফায়ার সার্ভিস সহায়তায় সাহায্য চাইতে পারেন। এছাড়া সরকারের স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমকে সহযোগিতা ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এক্সপো প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ভলান্টিয়ার রেজিস্ট্রেশন বুথ স্থাপন করা হবে। আগ্রহী দর্শনার্থীরা সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

আয়োজকেরা জানান, এবারের এক্সপোতে অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নিনিরাপত্তা প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি ও নজরদারি প্রযুক্তি, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, শিল্পনিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আধুনিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হবে। দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

পাঁচটি বিশেষায়িত সেমিনারে প্রকৌশলী, স্থপতি, নিরাপত্তা পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারবেন। এসব আলোচনায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প ও অবকাঠামোর সুরক্ষায় কার্যকর সমাধান তুলে ধরা হবে।

এবারের এক্সপোর কনভেনিং স্পনসর হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক অগ্নিনিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনএএফএফসিও। পাশাপাশি প্লাটিনাম, গোল্ড, সিলভার প্লাস, সিলভার ও ব্রোঞ্জ ক্যাটাগরির বিভিন্ন স্পনসর প্রতিষ্ঠান এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, শিল্প সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়