Apan Desh | আপন দেশ

জশনে জুলুসে মানুষের ঢল, উৎসবমুখর চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:২৩, ২৬ আগস্ট ২০২৬

জশনে জুলুসে মানুষের ঢল, উৎসবমুখর চট্টগ্রাম

ছবি: আপন দেশ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত-৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। শান্তি, মানবতা, অহিংসা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ জুলুসে অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন লাখো মানুষ।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। অতিথি হিসেবে আছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)। জুলুসে যোগ দিয়েছেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। দলে দলে শিশু বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে।

তাদের কণ্ঠে কোরআন, হামদ, নাত, দরুদের সুর। জুলুসের বাইরে ভবনে, ছাদে, সড়কে, ফুটপাতে অপেক্ষমাণ আশেকরা। পীর সাবির শাহসহ অতিথিদের এক নজর দেখাই তাদের ইচ্ছে। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি নেই, দেখা যায় খুশির ঝিলিক। অতিথিরা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান ভক্তদের। মাঝে মাঝে মোনাজাত করেন।

আমিন আমিন ধ্বনি ছড়িয়ে যায় বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে জুলুস শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন। পীর সাবির শাহ। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি খানকাহর সামনে বিশেষ গাড়িতে আসেন। এরপর শুরু হয় ঐতিহ্যের জশনে জুলুস। জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা পর্যন্ত ভাসমান মেলা বসেছে। জুলুসে অংশগ্রহণকারী পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন।

আরও পড়ুন<<>>পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুস মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত যাবে। এরপর একই পথে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসবে। চট্টগ্রামের আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জুলুসে যোগ দিতে নগরে প্রবেশ করছেন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে, আবার অনেকে হেঁটে মুরাদপুর ও ষোলশহরের দিকে যাচ্ছেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন সড়কে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আয়োজকরা প্রত্যাশা করছেন। এদিকে জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় ইতোমধ্যে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় বদলে গেছে নগরের চিত্র।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়