Apan Desh | আপন দেশ

পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি করায় ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি করায় ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেফতার

সুমাইয়া সাঈদ। ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রি করায় এক এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থেকে তার প্রধান সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ (২৫)। তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুক।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে। মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রম জানার পরও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের ডিসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তৈরিকৃত পর্ন ভিডিও এবং ছবি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ অথবা চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করছিল।

গ্রাহকদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি টিম গত ১১ আগস্ট ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার নারীর কাছ থেকে পর্ন ভিডিও ও ছবি তৈরির একজন পার্টনারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগীকে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকেও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন <<>> ব্যবসায় নামলেন সামিরা খান মাহি

এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।

ডিবি পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে।

ওই ঘটনার সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডিসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন বিক্রয় বা এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

সে সঙ্গে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও অনুমতিসহ বা অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার, বিক্রি বা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহবান জানান তিনি।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়