Apan Desh | আপন দেশ

অপরিপক্ক-স্বাদহীন লিচুতে সয়লাব বাজার

আমিনুল জুয়েল,আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১৬ মে ২০২৬

অপরিপক্ক-স্বাদহীন লিচুতে সয়লাব বাজার

ছবি: আপন দেশ

শুরু হয়েছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। বাহারী ফলমূলের পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা। মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বগুড়ার আদমদীঘির বিভিন্ন বাজার ও মৌসুমি ফলের দোকানে উঠতে শুরু করেছে লিচু। বাজারে আসা লিচুর বেশীর ভাগই এখনো সবুজ, স্বাদহীন ও অপরিপক্ব। এ অপরিপক্ক আর স্বাদহীন লিচুতে বাজার সয়লাব। মান ও গুণের বিচার করছেনা ক্রেতারা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মৌসুমের শুরুতেই অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা কাঁচা, অপরিপক্ব ও স্বাদহীন লিচু বাজারে বিক্রি করছেন। রং পাকা হলেও ভেতরের অংশ টক, অপরিপক্ব এবং বীজ শক্ত রয়েছে। স্বাদে মিষ্টতা কম হলেও দাম বেশ চড়া।

শনিবার (১৬ মে) আদমদীঘি স্থানীয় বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। আকার ও মানভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। সাইজ একটু বড় হলেই দাম আরও বাড়ছে। নতুন মৌসুমের ফলের আকর্ষণে ক্রেতারা লিচু কিনছেন। দাম বেশি হলেও শিশুদের আবদার ও মৌসুমের শুরুতে ফল কেনার আগ্রহের কারণে ক্রেতারা এমন স্বাদহীন কাঁচা লিচু কিনছেন দেদারছে।

বিক্রেতারা জানান, এলকায় সাধারণত বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ী, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু বিক্রি করা হয়। চলতি বছরে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই লিচু সংগ্রহ করে বাজারে তুলছেন। স্বাদ কম হলেও চাহিদা রয়েছে। এজন্য বিক্রিও ভাল হচ্ছে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে পাকা মনে হলেও অনেক লিচু ভেতরে অপরিপক্ব। তারপরও শিশুদের আবদার রাখতেই এমন লিচু কিনছেন তারা। 

আরও পড়ুন<<>>দেড় যুগ ধরে শিকলবন্দি বনলতা

বাজারে লিচু কিনতে আসা লুৎফা বানু নামে এক ক্রেতা বলেন, উপর থেকে দেখে মনে হয় পাকা। কিন্তু খাওয়ার পর বুঝলাম ভেতরের শাঁষ শক্ত, স্বাদও টক। মান ভালো না হলেও দাম বেশি। নতুন ফল তাই কিনলাম।

সুরুজ আলী নামের আরেক ক্রেতা জানান, বাচ্চাদের জন্য কিনেছিলাম। কিন্তু স্বাদহীন ও টক হওয়ায় তারা খেতে পারেনি। অনেক লিচু ফেলে দিতে হয়েছে।

সদরের কুসুম্বী গ্রামের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আরমান হোসেন বলেন, সব লিচু কাঁচা নয়। কিছু আগাম জাত আছে। এগুলি পুরোপুরি লাল না হলেও খাওয়ার উপযোগী। মৌসুম শুরুর আগেই অনেক ক্রেতা লিচু খোঁজেন। তখন বাগান থেকে যা পাওয়া যায়, সেটাই বাজারে আনতে হয়। কিন্তু অনেক ক্রেতারা সব লিচুকেই একভাবে বিচার করেন। প্রতি পিস লিচু ২ টাকায় বিক্রি করছি। লাভ কম হলেও বিক্রি বেশি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পারইল গ্রামের জালাল নামের এক লিচুবিক্রেতা বলেন, আগাম জাতের কিছু লিচু পাকতে শুরু করায় অনেকে বাধ্য হয়ে বাজারে তুলছেন। এখনো অনেক লিচুই পরিপক্ব হয়নি। আরও ১০ থেকে ১৫ দিন পর পুরোপুরি পাকা লিচু বাজারে আসবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement