ছবি: আপন দেশ
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের বনলতা হালদার (৩৫) দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। কৈশোরে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর থেকে দারিদ্র্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর অবস্থায় দিন পার করছেন তিনি।
বনলতা নবগ্রাম ইউনিয়নের মৃত কার্তিক হালদারের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চরম আর্থিক সংকটের কারণে তার উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।
শনিবার (১৬ মে) জানা যায়, অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় বনলতার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে তিনি পড়াশোনায় মেধাবী ও মনোযোগী ছিলেন। বাবা জীবিত থাকাকালে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও তার মৃত্যুর পর সে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবারের জানায়, প্রতিবেশীদের অভিযোগ এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রায় দেড় যুগ ধরে বনলতাকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে।
রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়—কোনো কিছুই যেন তার জীবনের বাস্তবতা বদলাতে পারেনি। দিনের পর দিন কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা, আবার কখনো পুরো রাত গাছের সঙ্গেই বন্দি থাকতে হয় তাকে। নিয়মিত খাবারও জোটে না অনেক সময়।
বনলতার বড় ভাই মিন্টু হালদার বলেন, ১৮ বছর বয়সের পর থেকেই তার বোনের মানসিক সমস্যা শুরু হয়। অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এখন মানুষ দেখলে গালিগালাজ করেন বলে বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> মাদারীপুরে ৬ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
তিনি বলেন, অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চলছে। সহায়তা পেলে হয়তো বোনের চিকিৎসা করিয়ে তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো।
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বনলতার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, বনলতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হয়েছে। পরিবারের সম্মতি পেলে সরকারিভাবে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































