ছবি : আপন দেশ
শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের বিভিন্ন অংশ ফেলে দিতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতের এ ঘটনা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সে বিরোধ আরও তীব্র হয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাড় ও মাংস আলাদা করে হাড়গুলো একটি ড্রামে ভরে কয়েক দিন বাসায় রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের হাড়ের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়া হয়। পরে মাংসের অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করে।
তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> টাকাসহ আটক জামায়াত কর্মীর ২ বছরের কারাদণ্ড
নিহতের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, তার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে ফিরে তারা আলাদা বাসায় থাকতেন। খবর পেয়ে এসে পরিবারের সদস্যরা হত্যার ভয়াবহতা জানতে পারেন। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন স্থানে দেহাংশ ফেলে দেয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































