ছবি : আপন দেশ
তপ্ত দুপুরে স্কুলের বারান্দায় সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে একদল খুদে শিক্ষার্থী। সবার হাতে পরম মমতায় ধরা একটি করে গাছের চারা। কেউ পেয়েছে আম, কেউ জাম, কেউবা অন্য কোনো ফলজ গাছ। এ চারাগুলো কেবল গাছ নয়, যেন এক টুকরো আগামীর ছায়া। আর এ ছায়া বিলিয়ে দিচ্ছেন নওগাঁর এক স্বপ্নবাজ মানুষ, যাকে সবাই চেনেন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় দেখা মিলল এ সবুজের ফেরিওয়ালার। বোদা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে নিজ হাতে ফলজ গাছের চারা তুলে দিলেন কলেজ অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান।
কে এ সবুজের ফেরিওয়ালা?
আরিফুর রহমান নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং একই সঙ্গে রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তবে এ পরিচয়ের বাইরে তার বড় পরিচয় তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমিক। গত তিন বছর ধরে নিজের বেতনের জমানো টাকা দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাকে সবুজ করার এক নীরব বিপ্লব শুরু করেছেন তিনি। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলাকে বেছে নিয়ে তিনি চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় তার এ ‘সবুজায়ন মিশন’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি গাছ বিতরণ করেছেন এ পরিবেশ যোদ্ধা।
উপহার হিসেবে জাম গাছের চারা হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী আনিকা তাবাসসুম ইচ্ছে। সে বলে, আরিফ আঙ্কেলের কাছ থেকে একটি চারা পেয়েছি। এটি বাসায় গিয়ে রোপণ করব আর নিয়মিত পানি দেব।
আরও পড়ুন<<>>রামগড় বিদ্যালয়ে ভয়াবহ আগুন
আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অনিক বেশ সচেতনভাবেই জানাল গাছের গুরুত্ব। তার ভাষায়, গাছ আমাদের বন্ধু, গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। বন্ধুদের সঙ্গে গাছ পেয়ে আমি খুব খুশি।
আয়োজকদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী আজ বিপন্ন। এ বৈরী প্রকৃতিকে শান্ত করতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। সবুজের ফেরিওয়ালা অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, গাছ লাগানোর নেশা আমার ছোটবেলা থেকেই। আমরা প্রতিনিয়ত গাছ কাটছি, কিন্তু লাগাচ্ছি না। শিশুদের মনে গাছের প্রতি ভালোবাসা জন্মালে তবেই ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিরাপদ হবে। এ লক্ষ্যেই নিজের উপার্জিত অর্থে ১৬ জেলায় গাছ বিলিয়ে দিচ্ছি।
বোদা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা বেগম এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, টি শুধু চারা বিতরণ নয়, এটি শিশুদের মাঝে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা বুনে দেয়া। এমন উদ্যোগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উচিত।
বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক লিয়াকত আলী জানান, অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফাঁকা জায়গা, নদী তীর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন করছেন। আমরা তাকে ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নাম দিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই বাকি ৪টি জেলাতেও আমাদের এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
ধরিত্রীকে সাজাতে এবং তপ্ত ধরনীকে শীতল করতে সবুজের ফেরিওয়ালার এ পথচলা থামছে না। তার বিলিয়ে দেয়া একেকটি চারা আগামী দিনে ডালপালা মেলে বড় হবে, আর সে ছায়াতলে বেড়ে উঠবে আগামীর এক সবুজ প্রজন্ম—এমনটাই প্রত্যাশা পঞ্চগড়বাসীর।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































