Apan Desh | আপন দেশ

হাঁসফাঁস গরমে তালের শাষে মিলছে স্বস্তি

আমিনুল জুয়েল, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ৬ জুন ২০২৬

হাঁসফাঁস গরমে তালের শাষে মিলছে স্বস্তি

ছবি: আপন দেশ

দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। কয়েক দফা বৃষ্টির পরেও ভ্যাপসা গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পরছে। গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচন্ড তাপে হাঁসফাঁস হয়ে উঠে শরীর। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম আর গাঁ বেয়ে নোনা জল জানান দেয় ক্লান্তির। ক্লান্ত শরীরে দ্রুত প্রশান্তি এনে দিতে পারে তালের শাষ। তালের শাষ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি খাবার।  এতে রয়েছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। শাষের বেশির ভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় তাল গাছ থাকলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। অধিকাংশ তাল আসে পাশ্ববর্তী জেলা নওগাঁ ও নাটোর থেকে। তবে, এ উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম, নশরতপুর ও কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নে বেশি তালগাছ রয়েছে। শাষ বিক্রেতারা মৌসুমের শুরুতেই গাছওয়ালাদের কাছ থেকে তালের বায়না দেন। পরে সেগুলি খাওয়ার উপযোগী হলে সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বাজারগুলোতে।

 সরেজমিনে আদমদীঘি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সের মানুষেরা ভীড় করছে তালের দোকানে। ক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বেশি। তাই দাম চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, গাছ থেকে তাল সংগ্রহ রিস্কি কাজ। লাভ কম হলেও বিক্রি বাড়ছে। তালের কচি শাষ এবং এর ভেতরের মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে শরীরে এনে দেয় আরামদায়ক অনুভূতি।

জৈষ্ঠ্য মাস তালের শাষ খাওয়ার উপযোগী সময়। এ মাস পার হলেই শাষগুলি শক্ত হয়ে যায়। কচকচে শাষ অনেকেই পছন্দ করে না। জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই গাছ থেকে তাল পেড়ে বাজারজাতকরণ করা হয়। সবধরণের ক্রেতারা হুঁমড়ি খেয়ে পড়েন তালের শাস কিনতে। শুরুতে দাম একটু চড়া থাকলেও ধীরে ধীরে কমে আসে। শুরুর দিকে স্বল্প আয়ের মানুষজন শাসঁ না কিনলেও দাম কমার পর সব শ্রেণির মানুষ তালের শাষের স্বাদ নেন। অনেকেই দুই মাসের জন্য এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে শাষ বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করেন। 

আরও পড়ুন<<>>যমুনায় ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

তালের শাষ সুস্বাদু হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে এটি একটি জনপ্রিয় ফল। এখন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং অলিতে গলিতে শাষ বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে, শহরের তুলনায় গ্রামে তালের শাষ খাওয়ার প্রচলন বেশি। গ্রামে ছেলেরা দলবেঁধে সকাল বা বিকেল তালের শাষ খেতে ভীড় জমায় গাছের তলায়।

 রফিকুল ইসলাম নামের এক এনজিও কর্মী জানান, ছোটবেলায় দলবেঁধে বন্ধুদের সঙ্গে তালের শাষ খেতাম। সে স্মৃতি মনে পরছে। প্রতিপিস ৫ টাকা। আর কাঁদি নিলে ৫০ টাকা থেকে শুরু। দাম বাড়েনি। তবে সাইজ ছোট মনে হচ্ছে।  কাঁদি নিলে বেশি লাভ হবে বলে মনে করছি।

সদরের জিনইর গ্রামের তাল ব্যবসায়ী সাজু জানান, আদমদীঘিতে তালের শাষের চাহিদা অনেক। দামও ভাল পাওয়া যায়। এজন্য গত দশ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে তাল কিনে তালের শাষ বিক্রি করি।

শিবপুর গ্রামের জুয়েল নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, ভেজা গাছে চড়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করি। কারন পা পিছলে পড়ার সম্ভবনা থাকে। অনেকসময় ছোট গাছের মাথায় সাপ দেখা যায়। তালের কাঁদি (বাদা) কাটা রেখে চলে আসতে হয়। এছাড়াও দুষ্টু ছেলেরা কেনা গাছ (কাঁদি) থেকেও তাল চুরি করে। এ কাজে রিস্ক রয়েছে বলে জানায় তিলকপুরের মির্জাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ।

সান্তাহার রেলগেটে ডাব ও তালের শাষ বিক্রি করছেন পাথুরকুটা গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মাসুদ রানা। তিনি ইশারায় জানান, তালের এক চোখের দাম ৫ টাকা। তবে, একটি তাল নিলে ১৫ টাকা। অন্য দোকানী জানান, পাইকারি দাম ৪ থেকে ৫ টাকা। তবে আমরা খুচরা বিক্রি করছি শাষ প্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা দরে। একটি তাল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

 ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের অন্তাহার গ্রামের তাল বিক্রেতা মিঠু মিয়া জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে অন্যান্য পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এক মাসের জন্য তালের শাষ বিক্রি করি। এতে এক মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়। তবে, গাছ থেকে বাদা (তালের কাঁদি) কাটায় ঝুঁকি রয়েছে। লাভের আশায় দুইমাস একাজ চলে। বছরের অন্যান্য সময়ে আমি কাঁচা তরকারির ব্যবসা করি।
আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়