ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বেশ কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এসব জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মোট ১২টি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে। আরও তিনটি জাহাজ এ সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। দুটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস। এছাড়া নয়টি জাহাজে এসেছে সিমেন্ট শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ক্লিংকার।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালি। এ পথ ব্যবহার করে ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব থেকে নিয়মিত পণ্য আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে রওনা হয়েছিল, সেগুলোই এখন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে।
তিনি বলেন, আরও কয়েকটি জাহাজ এখনো পথে রয়েছে। আবার কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি বন্দরে অবস্থান করছে।
তার মতে, সরকার, শিপিং লাইন, জাহাজের মালিক, পণ্যের মালিক এবং নাবিকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের হুমকি তৈরি না হয়, তাহলে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন <<>>মাটির নিচ থেকে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার
এছাড়া ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার ‘আল গালায়েল’ এবং সোমবার ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ চারটি জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।
অন্যদিকে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে। এগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। এর বড় অংশই ছিল জ্বালানি পণ্য।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































