ফাইল ছবি, আপন দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবে জ্বালানি তেল ও ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
এ সময়ে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং গ্রামীণফোনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির (ব্লু-চিপ) কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির ধুম পড়েছিল, যা বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ডিএসই-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুরো মাসে তাদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭২ কোটি টাকা, যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৫৯ শতাংশ কম। উদ্বেগের বিষয় হলো, এ লেনদেনের মধ্যে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১৫ কোটি টাকা, যেখানে ক্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বড় অংকের বিদেশি ক্যাশ বা নগদ অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন<<>>দেশে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। যেখান থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের হার ৩০.২৬ শতাংশ থেকে কমে ২৭.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর পরেই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যেখান থেকে ৩৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া স্কয়ার ফার্মা থেকে ৩২ কোটি এবং গ্রামীণফোন থেকে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
অন্যান্য বড় কোম্পানির মধ্যে রেনাটা লিমিটেড থেকে ১১.৫০ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি এবং বিএটি বাংলাদেশ থেকে ৪.৬০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বিএসআরএম, লাফার্জহোলসিম, মারিকো ও আইডিএলসি ফিন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও বিদেশিরা তাদের অবস্থান সংকুচিত করেছেন। বিপরীতে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও রিং শাইন টেক্সটাইলের মতো কিছু ছোট কোম্পানিতে সামান্য বিনিয়োগ বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাবে জ্বালানি তেল ও ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিদেশিদের ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করছে। এছাড়া সুশাসনের অভাব এবং তালিকাভুক্ত দুর্বল কোম্পানি বা ‘জাঙ্ক স্টক’-এর আধিক্য বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
চলতি অর্থবছর-এর শেষ দিকে এসে বিনিয়োগকারীদের প্রস্থান বাজারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানিয়েছেন, বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তদন্ত ব্যবস্থা জোরদার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারবাজার-কে আরও স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করার কাজ চলছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































