Apan Desh | আপন দেশ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর জুনের শেষে: ডেপুটি স্পিকার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ১১ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর জুনের শেষে: ডেপুটি স্পিকার 

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর চলতি জুন মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না–সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন। যা দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে।

চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনার বিবরণ দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে তার চীন সফরের মাধ্যমে সম্পর্কের শুভ সূচনা ঘটে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের চীন সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতা এককভাবে কোনও দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

আরও পড়ুন<<>>দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়ল

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি করে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

ফোরামে আরও বক্তব্য দেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউরো, নেপাল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার, চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি এবং ভুটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য মন্ত্রী কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল দশম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। সেখানে বাংলাদেশ থিম কান্ট্রি হিসেবে অংশগ্রহণ করে ৮৪টি প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। এ প্রদর্শনীতে মোট ৯০টি দেশ অংশ নেয়।

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদীয় দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন পর্যটন, তিস্তা ব‍্যারেজ নির্মাণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করে।

এ সময় চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীন কাজ করতে আগ্রহী। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। 

আপন দেশ/এসআর
 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement

জনপ্রিয়