মোস্তাফিজুর রহমান
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএল থেকে বাদ পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর পানি গড়ায় আরও অনেক দুর। তবে বাংলাদেশের এ তারকা পেসারের দিকে নজর রেখেছিল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। তবে নিলামের আগেই কাটার মাস্টারকে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স।
মোস্তাফিজের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে পিএসএলের দলটি। মোস্তাফিজকে দলে নেয়ার পর রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান লাহোর কালান্দার্সের মালিক সামিন রানা।
লাহোর কালান্দার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় সামিন বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য মোস্তাফিজ অনেক বড় নাম। তাকে দলে পাওয়া কালান্দার্সের জন্য সম্মানের ব্যাপার। এ সময় মোস্তাফিজের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। এটি কেবল একটি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়; বিশ্বাস, ধৈর্য এবং প্রায় এক দশক ধরে গড়ে ওঠা একটি সম্পর্কের গল্প। কালান্দার্স ও মোস্তাফিজুরের মধ্যকার এ যোগসূত্র পিএসএল-এর একদম প্রথম ড্রাফট পর্যন্ত বিস্তৃত। সে সময়ে মোস্তাফিজুর ছিলেন একজন তরুণ বোলার। তখন বাংলাদেশের হয়ে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ খেলা হয়েছে তার এবং ওই সময় আইপিএলে নাম লেখাননি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও, লাহোর কালান্দার্স এ তরুণ বাঁহাতি পেসারের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পায় এবং গোল্ড ক্যাটাগরিতে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে তাকে নির্বাচন করে। এটি ছিল তরুণদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আস্থার এক জোরালো বহিঃপ্রকাশ, যা অঞ্চলজুড়ে উদীয়মান প্রতিভা শনাক্ত করার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রদর্শন।
আরও পড়ুন<<>>যে কারণে পাকিস্তানে গেলেন বিসিবি সভাপতি
দুর্ভাগ্যবশত, মোস্তাফিজুর ওইবার দলে যোগ দিতে পারেননি। কারণ প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র পাননি। ফলে খেলোয়াড়-ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার যে আশা লাহোর করেছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আগ্রহ ও সম্মান অটুট ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার উন্নতির ধারা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং তিনি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। পরবর্তী কয়েক বছরে মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের ক্রমশ উন্নতি ঘটে। তিনি যখন তার দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাচ্ছিলেন, তখনও তার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরুর দিকের দলগুলোর অন্যতম হিসেবে লাহোর কালান্দার্স ছিল।
২০১৮ সালে মোস্তাফিজ ও লাহোর কালান্দার্সের মধ্যকার সে সম্পর্ক পুনরায় তৈরি হয়, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পিএসএল-এ তাকে আবার দলে নেয়। এবার তিনি স্কোয়াডে যোগ দেন এবং লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পাঁচটি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেন। সে মৌসুমে দলের সঙ্গে তার সময় ছিল সংক্ষিপ্ত। ২০১৮ মৌসুমের পর মোস্তাফিজ আর পিএসএল ড্রাফটের জন্য নাম নিবন্ধন করেননি।
সবশেষ গল্পের সাম্প্রতিক অধ্যায়টি শুরু হয় ৪ জানুয়ারি, যখন মোস্তাফিজ আইপিএলের জন্য নিবন্ধিত হওয়ার পর তার ম্যানেজার লাহোর কালান্দার্সের সামিন রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ যোগাযোগ বহু বছরের পুরোনো সে সম্পর্ককে আবারো ফিরিয়ে আনে।
লাহোর কালান্দার্সের টিম ডিরেক্টর সামিন রানা ইতিবাচক সাড়া দেন এবং মোস্তাফিজুরের ওপর তার চলমান বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে সবসময়ই একজন ‘কালান্দার’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এ চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিদায় নেয়ার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভক্ত ও গণমাধ্যমের উচ্চ প্রত্যাশার কারণে এ ধরণের মুহূর্তগুলো খেলোয়াড় ও দলের জন্য কঠিন হতে পারে। এ সময়ে মোস্তাফিজকে লাহোরের দলে নেয়ার সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড় ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি এক ধরণের সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি এ বার্তা দেয় যে, একটি টুর্নামেন্টের ফর্ম বা ফলাফল কোনো খেলোয়াড়ের সামর্থ্য বা যোগ্যতাকে সংজ্ঞায়িত করে না।
লাহোর ও মোস্তাফিজের এ গল্পটি দেখায় যে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেটের সম্পর্কগুলো বিকশিত হতে পারে। যার শুরু হয়েছিল একজন তরুণ বোলারের ড্রাফট নির্বাচনের মাধ্যমে, যেবার তিনি দলে যোগ দিতে পারেননি, সেটাই এখন বিশ্বাস এবং অভিন্ন ইতিহাসের ভিত্তিতে একটি সরাসরি চুক্তিতে রূপ নিয়েছে। দশ বছর আগে লাহোর কালান্দার্স বাংলাদেশের এক তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে যে সম্ভাবনা দেখেছিল, আজ সে বিশ্বাসই নতুন রূপে চলমান রয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































