Apan Desh | আপন দেশ

নোমান গ্রুপের ১৯০ কোটি টাকার জালিয়াতি, দুদককে সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:২৮, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:৫৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোমান গ্রুপের ১৯০ কোটি টাকার জালিয়াতি, দুদককে সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট

মো. নূরুল ইসলাম ও নুর-ই ইয়াসমিন ফাতিমা। ছবি : সংগৃহীত

বন্ধকী সম্পত্তির অতিমূল্যায়ন, তথ্য গোপন ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ‘নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড,’ ‘ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’সহ নোমান গ্রুপের সহযোগি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগ পাঁচ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে দায়েরকৃত রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি হামিদুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ নির্দেশ দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সরকারপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম ও এসএম ইউনুস আলী রবি।

আরও পড়ুন<> ব্যাংক লুটছেই নোমান গ্রুপ

দুদক বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগের কপি সংযুক্ত করে রিটে বলা হয়, নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লি:, ইয়াছমিন টেক্সটাইল মিলস এবং নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম নিজ নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক থেকে জাল-জালিয়াতি ও তথ্য গোপন করে ঋণের ওপর ঋণ নেন। শ্রীপুরের কেওয়া মৌজায় ০১/০৪/২০১৫ তারিখে ৪২৫৩ নম্বর বন্ধকী দলিলমূল্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ১শ’৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন।

কেওয়া মৌজায় ৬০৮ শতাংশ জমি মাত্র ২৪ কোটি টাকায় কিনে সেটির অতি মূল্যায়ন এ ঋণ নেন। পরে ব্যাংকে বন্ধক থাকা একই প্রতিষ্ঠানের পুরনো মেশিনারিজ ‘প্রাইমারি সিকিউরিটিজ’ গণ্য করা। পরে নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লি:’র পুরনো মেশিনারিজ এবং অভিন্ন স্থাপনা বন্ধক দিয়ে গত ১৬/০৮/২০২০ তারিখে ৬৮৪৫ নম্বর বন্ধকী দলিল মূলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের একই শাখা থেকে দ্বিতীয়বার আরও ৩৫ কোটি টাকা ঋণের ওপর ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করে। 

আরও পড়ুন <<>> আত্মস্বীকৃত চোর প্রকৌশলী আজাদের হাতে সওজের রিমোট

একই প্রক্রিয়ায় ১৮/০৭/২০১৬ সালে কেনা শ্রীপুর মুলাইদ মৌজার ২৩০.৯৫৫ শতাংশ জমি মাত্র ১২ কোটি টাকায় কিনে ওয়ান ব্যাংক মতিঝিল শাখায় বন্ধক রেখে (বন্ধকী দলিল নং-৯২৫৩) ১শ’৫৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত করেন। 

এছাড়া গাজীপুর শ্রীপুর কেওয়া মৌজায়  ১৮০.৫০ শতাংশ জমি  (যার মূল্য মাত্র ১২ কোটি টাকা) সম্পত্তি উত্তরা ব্যাংকে বন্ধক রেখে (বন্ধকী দলিল নং-১৯৭১) ৫০ কোটি টাকা ঋণ নেন ‘্ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস’র মালিক নূর-এ- ইয়াসমিন ফাতেমা। 

এভাবে কম মূল্যের জমি দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অতিমূল্যায়িত করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত অভিযোগে। মো. কাজল সরকার দায়েরকৃত এ অভিযোগ জনস্বার্থে আদালতের দৃষ্টিতে আনা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়